শহরের যানবাহনের ভারি শব্দে সব সময়ই অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজমান। কিন্তু গ্রামে তার দ্বিমুখে আচরণ। শৈশবের একটা সময় গ্রামে অতিবাহিত হয়।তখন রমজানে দেখতাম গ্রামের কিছু নির্দিষ্ট মুরব্বি সেহরির পূর্বক্ষণে পুরো এলাকা জুড়ে আহ্বানের কোমল স্বরে মুখরিত করত পুরো এলাকা। একটু পরেই মসজিদের মাইক থেকে সেই পুরনো বাদ্যযন্ত্রবিহীন ইসলামিক গজলের মহক ছড়তো । কি হৃদয়গ্রাহী সুর, কতটা মর্মস্পর্শী ছিল। আমাদের রঙিন শৈশবের এক চিরন্তন উপভোগ্য বিষয় ছিল এই সুর। ২০২৬ এর অত্যাধুনিকতাও উপেক্ষিত সেই রঙিন শৈশবের সজীবতায়। তাদের উদ্বেগের কন্ঠ যেন রমজানেরই এক অপূর্ব এক চিত্র অঙ্কিত হয়ে উঠত। আরও পড়ুন: একজন মুসলিম যেভাবে রমজানের প্রস্তুতি নিবেন গগনবিদারী তরঙ্গায়িত ধ্বনিতে শরীরাবরণ ভেদ করে অন্তঃকরণে জায়গা করে নিতো পরিশুদ্ধতার বাণী। এভাবেই একটা সময় তাদের হাঁকডাক আর সংগীতের মূর্ছনায় উপভোগ্য হয়ে উঠতো ধু.ধু. আঁধার। অবুঝ মন তো বুঝেই নিয়েছিল যে মসজিদের লোকেরা গজল না গাইলে সেহরির সময়ই হয় না। এখনো মনে পড়ে! খুব আগ্রহ নিয়ে আমরা সেহরি খাওয়ার জন্য উঠতাম। আর নানুর সাথে বিটিভির সেই ঝিরঝির চ্যানেলে হুজুরদের দোয়ায় শরীক হতাম। খেতে বিলম্ব হলে তো বলতো( حي على الصلاه) পর্যন্ত খাওয়া যায়।এমন অনেক অদ্ভুত বিষয় এখনো স্মৃতিতে জেগে জেগে ওঠে। অনেক দিন অতিবাহিত হয়েগেছে। শহর বদলে গেছে, মানুষ বদলে গেছে, কিন্তু সেই সুর, সেই সাহরীর আমেজ, সেই রমজানের রওনক আজও ঠিক আগের মতোই হৃদয়ে ভালোলাগার ঢেউ তোলে। চোখ বন্ধ করলে যেন এখনও শুনতে পাই, দূরের কোথাও বাজছে সেই গান, আর চারপাশে ছড়িয়ে আছে শৈশবের ঘ্রাণ।