বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ঢাকা-১৭ আসন, যেখানে রাজনীতির এক বিরল সৌজন্য ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফ্রান্স প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আয়েবা (AIBA) মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ। তারেক রহমান ও কাজী এনায়েত উল্লাহর সম্পর্কের ভিত্তি রচিত হয়েছিল আজ থেকে এক দশক আগে। ২০১৬ সালে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমান এক বিশেষ প্রয়োজনে কাজী এনায়েত উল্লাহকে লন্ডনে আমন্ত্রণ জানান। তৎকালীন সময়ে এনায়েত উল্লাহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক ব্রিটিশ এমপি জেন ল্যাম্বার্ডের সঙ্গে তার শক্তিশালী কূটনৈতিক যোগাযোগ তারেক রহমানের নজর কেড়েছিল। লন্ডনে সেই দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার প্রথম বৈঠকেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক। কাজী এনায়েত উল্লাহর দেশপ্রেম বরাবরই ছিল প্রশ্নাতীত। রানা প্লাজা ধসের পর যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল, তখন এনায়েত উল্লাহ ও বিজিএমইএ নেতাদের সময়োচিত মধ্যস্থতায় রক্ষা পায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাত। তার এই নিঃস্বার্থ অবদানকে সবসময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন বনানীর ঐতিহ্যবাহী ‘চেয়ারম্যান পরিবারের’ সন্তান কাজী এনায়েত উল্লাহ। প্রবাসীদের মুখপাত্র হিসেবে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে তিনি ব্যাপক জনমত গঠন করেন। তার শোডাউন ও জনসংযোগে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, তার নিজস্ব প্রায় ১০ হাজার পারিবারিক ভোটব্যাংক নির্বাচনি সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছিল। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তে যখন তারেক রহমান নিজে এই আসনে প্রার্থী হন, তখন দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে কাজী এনায়েত উল্লাহ নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তিনি শুধু সরে দাঁড়াননি, বরং তার বিশাল ভোটব্যাংক ও সমর্থকদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এনায়েত উল্লাহর এই নিঃস্বার্থ সমর্থন ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের জয়কে সহজতর করে তোলে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের ময়দানে এই ত্যাগ ও সংহতি সাধারণ ভোটারদের মাঝে কাজী এনায়েত উল্লাহকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এমআরএম/জেআইএম