মসজিদ থেকে সমাজে পৌঁছে যাক ঈমানের বার্তা

রমজান মাস পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস। এই মোবারক মাসে যারা বিভিন্ন মসজিদে তারাবির ইমামতি করবেন এবং যে সকল তালিবে ইলম অবসর সময় যাপন করছেন, আমরা সকলে মিলেই কিছু মহৎ দ্বীনি কাজে শরিক হতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন।আমরা তো ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া বা নবীদের উত্তরসূরি। আমাদের দায়িত্ব হলো পথহারা। মানবসমাজকে সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে আহ্বান করা, তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসা। আল্লাহর বান্দাদের খেদমত করা ইসলামের এক মহান শিক্ষা। এই খেদমত নানা উপায়ে হতে পারে, ইলম শিক্ষা দেওয়া, দরিদ্রদের সহযোগিতা করা, জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইনসাফের কথা বলা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা। বিশেষ করে রমজান মাসে মসজিদভিত্তিক সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এক বিরাট খেদমত হতে পারে। আমাদের পূর্বসূরিরা সাধারণ মানুষের অন্তরে ইলম ও দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের আলো ছড়িয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ আমরা সেই খেদমত থেকে অনেক দূরে সরে গেছি; ফলে জনমানুষের সঙ্গেও আমাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নানা অপশক্তি, বিশেষত খ্রিস্টান মিশনারিরা, সরল মানুষদের অন্তরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তাদের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাই আমাদের উচিত দাওয়াতি কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা। আল্লাহর বান্দাদের আল্লাহর পথে ডাকা, ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ করা। আরও পড়ুন: সেহরি না খেয়ে কি রোজা রাখা যাবে? এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের ঈমান ও আমল মজবুত হবে, মানুষের হিদায়াতের পথ সুগম হবে। সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার, অশ্লীলতা ও পাপাচার দূর হবে।  ন্যায়-ইনসাফ ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। এই রমজান মাসে আমরা নিম্নোক্ত কিছু কার্যক্রম হাতে নিতে পারি, ১. সহিহ কালিমা শিক্ষা প্রদান। ২. পরিশুদ্ধ ঈমান ও আকিদার মৌলিক শিক্ষা। ৩. পবিত্র কুরআনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সুদৃঢ় করা (তিলাওয়াত, তাজবিদ ও অর্থসহ বোঝানো)। ৪. পাক-নাপাকের মৌলিক ধারণা প্রদান। ৫. ওযু ও গোসলের সহিহ পদ্ধতি শেখানো। ৬. নামাজের গুরুত্ব ও সহিহ পদ্ধতিতে আদায়ের নিয়ম শিক্ষা দেওয়া। ৭. রোজার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসআলা আলোচনা করা। ৮. যাকাত ও হজের পরিচয় ও গুরুত্ব তুলে ধরা। ৯. জরুরি কিছু দোয়া–দরূদ শিক্ষা দেওয়া।১০. একটি সাধারণ সভা বা আলোচনা সভার আয়োজন করা। ১১. দ্বীনি বিষয়ে উলামায়ে কেরামের শরণাপন্ন হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা। মসজিদ কমিটির সাথে পরামর্শ করে আমরা এসব দ্বীনি মেহনত শুরু করতে পারি। রমজানে যোহরের নামাজের পর অনেক মুসল্লি মসজিদে অবস্থান করেন। সে সময়টিতে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা সাধারণ মানুষকে সময় দেওয়া সম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মোবারক মাসকে ফলপ্রসূ করার তাওফিক দান করুন। এই রমজান হোক আমাদের ঈমানি জাগরণ ও মহান ভবিষ্যৎ সংগ্রামের প্রস্তুতির মাস। আমরা যেন এই বরকতময় দ্বীনি মেহনতের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কবুল করুন। আমিন।