সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন। পরে তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকেও শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণ করা হয়। পুরো পরিবেশ ছিল শ্রদ্ধা, নীরবতা ও আবেগঘন অনুভূতিতে পরিপূর্ণ। দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এতে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় চেতনা বিকাশে এর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আরও পড়ুন: টরন্টোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রিয়াদের অভিবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ জনাব হামিদুল হক শামীম, মো. তাজুল ইসলাম গাজী এবং ডা. এ কে এম গোলাম হাসনাইন সোহান। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা জোরদার করার আহ্বান জানান। সবশেষে রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে সকল ভাষা শহিদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বকীয়তাবোধ ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। সেই আন্দোলনই পরবর্তীকালে স্বাধীনতার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এবং বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার ধারাবাহিকতায় বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—বাংলাদেশের মানুষ যখন ন্যায়সংগত দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন সাফল্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন: স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত সৌদি আরবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীরা সততা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সৌদি সমাজের আস্থা অর্জন করেছেন। তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারেন। ‘বাংলাদেশ’ নামটি যদি দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এর সুফল দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদায় প্রতিফলিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অদম্য চেতনাকে ধারণ করে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে গঠনমূলক অবদান রাখার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজন জুড়ে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা মাতৃভাষার প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই প্রকাশ।