চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার ৮ পর্বের দুটি গ্রুপ চূড়ান্ত করার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) । প্রি-সিডিং ফরম্যাটের কারণে চারটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়নকে রাখা হয়েছে একই গ্রুপে, আর রানার্স-আপ দলগুলোকে রাখা হয়েছে অন্য গ্রুপে।এর ফলে গ্রুপ পর্বে সেরা পারফরম্যান্স করা দলগুলো পড়েছে একই গ্রুপে, যাকে বলা হচ্ছে ‘গ্রুপ অব ডেথ’, আর দ্বিতীয় হওয়া দলগুলো পেয়েছে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের মাঝেই ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার নিজের মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অর্থহীন।গাভাস্কার বলেন, 'এখন কেন এই বিষয়টি তোলা হচ্ছে? টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেন এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি? যারা এখন বিষয়টি তুলছেন, তাদের কাছেই এই প্রশ্ন করা উচিত। আমার যতদূর মনে হয়, হয়তো আইসিসি ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে—টুর্নামেন্টটি দুটি দেশে হওয়ায় লজিস্টিক কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'আইসিসির প্রি-সিডিং সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে তিনি বলেন, সূচির জটিলতা সামলাতে বোর্ডকে হোটেল বুকিং, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, ভিসা ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়েছে।আরও পড়ুন: ওনার অধীনে ক্রিকেট একটা অবস্থানে যাওয়া উচিত: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী প্রসঙ্গে ফারুকতিনি আরও বলেন, 'আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আছে, ইমিগ্রেশন আছে, কাস্টমস আছে—সবকিছু সামলাতে হয়। বিমান ও হোটেল বুকিংয়ের বিষয়ও রয়েছে। সব দল একই সংখ্যক সদস্য নিয়ে ভ্রমণ করে না। কেউ ১৫ জন সাপোর্ট স্টাফসহ যায়, তাদের ৩৫-৪০টি রুম লাগতে পারে। আবার কেউ ২০-২২ জন নিয়ে গেলে কম রুমেই হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই হয়তো প্রি-সিডিং করা হয়েছে।'এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে আইসিসি সুপার ৮-এর গ্রুপ নির্ধারণ করেছে টুর্নামেন্ট-পূর্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে, গ্রুপ পর্বের প্রকৃত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নয়। ২০২৬ আসরে এর ফল হয়েছে বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যহীনতা।গ্রুপ–১ এ রাখা হয়েছে চারটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন—ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা।গ্রুপ–২ এ আছে চারটি রানার্স-আপ দল—পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। আরও পড়ুন: নিশাঙ্কার জন্য শ্রীলঙ্কার রান তাড়া করা উচিতসমালোচকদের মতে, এই পদ্ধতি 'সাফল্যকে শাস্তি দেওয়ার' মতো, কারণ সেরা দলগুলোকে একে অপরকে আগেভাগেই বিদায় করতে হবে, আর দ্বিতীয় হওয়া দলগুলো তুলনামূলক সহজ পথ পাচ্ছে সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য।অন্যদিকে আইসিসির দাবি, সম্প্রচার সংস্থা ও আয়োজকদের ভ্রমণ, ভেন্যু ও ‘প্রাইম-টাইম’ সূচি অনেক আগে থেকে চূড়ান্ত করতে সহায়তা করতেই এই প্রি-সিডিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।