নসরুল হামিদের ‘লুটপাটের সিন্ডিকেটে’ বিদ্যুৎখাতের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর দুর্নীতির গভীরে যেতেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বিদ্যুৎ খাতের থলের বিড়াল। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ১০ বছরের মধ্যে ভুয়া প্রকল্প এবং নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) এক ধরনের ‘লুটপাটের সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠে। এই দুর্নীতির সাম্রাজ্যে বিপুর বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন চার সাবেক চেয়ারম্যানসহ পিডিবির ১৩ শীর্ষ কর্মকর্তা।আওয়ামী শাসনামলে বিদ্যুৎখাতে ভুয়া প্রকল্প, ঘুষের বিনিময়ে কাজ আর হরিলুটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি বলছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর হাত ধরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে গড়ে উঠেছিল এক 'মাফিয়া চক্র'। যারা প্রত্যেকেই গড়েছেন অঢেল সম্পদ। নসরুল হামিদ বিপুর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই পিডিবির সাবেক চার চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, মাহবুবুর রহমান, বেলায়েত হোসেন, আলমগীর কবিরসহ প্রকৌশলী-পরিচালক মিলিয়ে ১৩ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নামে দুদক। এরইমধ্যে প্রাথমিকভাবে দুর্নীতির সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর অনুসন্ধানের বাইরেও পিডিবির এই ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিকভাবে সত্যতা প্রমাণ পেয়েছি। আরও পড়ুন: রমজানে লোডশেডিংমুক্ত থাকবে কি না দেশ, জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী দুদক জানিয়েছে, আদানির সঙ্গে চুক্তিসহ গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎখাতের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনায় একাধিক অনুসন্ধান চলছে। আকতারুল ইসলাম আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের বিষয়গুলোই দুদক অনুসন্ধান করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে বিদ্যুৎখাতের সংকটকে কাজে লাগিয়ে যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। অর্থনীতি বিশ্লেষক ও টিআইবির সদস্য মাজেদুল হক বলেন, বিদ্যুৎ সংকটকে পুঁজি করে কিছু গ্রুপ ও কিছু দেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোম্পানির চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তির ভেতরে অনেক ফাঁকফোকর ছিল, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গ্রুপ ও কোম্পানি সুবিধাভোগী হয়েছে। এটি সরাসরি রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। দুদকের অনুসন্ধানকারী দল জানিয়েছে, বিদ্যুৎখাতে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ এবং সরকারি জমি দখলের মতো অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।