লিবিয়া ও গ্রিসের উপকূলে পৃথক পৃথক দুটি নৌদুর্ঘটনায় অন্তত আটজন আশ্রয়প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি লাশ লিবিয়া এবং বাকি তিনটি গ্রিসে উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।প্রতিবেদন মতে, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে কাসর আল-আখিয়ার উপকূলে পাঁচজনের মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সেগুলো দেখতে পান। কাসর আল-আখিয়ার থানার তদন্ত প্রধান হাসান আল-ঘাওইল জানান, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনই কৃষ্ণাঙ্গ এবং তাদের মধ্যে দুইজন নারী। তিনি বলেন, স্থানীয়রা একটি শিশুর মরদেহও তীরে ভেসে আসতে দেখেছিল, কিন্তু ঢেউ সেটাকে আবার সাগরে নিয়ে যায়। মরদেহ উদ্ধারের জন্য রেড ক্রিসেন্টকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, আরও মরদেহ তীরে ভেসে আসতে পারে। একই সময়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের ক্রীট দ্বীপের কাছে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। একটি কাঠের নৌকা ডুবে গেলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের বেশিরভাগই মিশর ও সুদানের নাগরিক, তাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। আরও পড়ুন: ইতালির স্পন্সর ভিসা: ‘ক্লিক ডে’ ত্রুটিতে মিলছে না ভিসা, বাড়ছে অবৈধ শ্রমিক গ্রিক গণমাধ্যম জানায়, উদ্ধার অভিযানের সময় যাত্রীরা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করলে নৌকাটি উল্টে যায়। এখনও উদ্ধার তল্লাশি চলছে। কোস্টগার্ড, টহল নৌকা, একটি বিমান এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রনটেক্সের জাহাজ এতে অংশ নিয়েছে। বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে প্রায় ৫০ জন ছিলেন। একই এলাকায় আরও একটি নৌকা দেখা যায়, যাতে প্রায় ৪০ জন অভিবাসী ছিলেন। তাদের উদ্ধারে আলাদা অভিযান চালানো হয়। এর আগে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, ফেব্রুয়ারির শুরুতে লিবিয়ার জুয়ারা উপকূলে একটি রাবারের নৌকা ডুবে ৫৩ জন মারা যান বা নিখোঁজ হন। জানুয়ারি মাসেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে অন্তত ৩৭৫ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বাস্তবে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবছর হাজারো মানুষ লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপমুখী অভিবাসীদের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। আরও পড়ুন: সুইডেনের নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ ইরান ছাড়ার নির্দেশ জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় থাকা অভিবাসীরা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও দাসত্বের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই মানবাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৬ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী ক্রীট হয়ে ইউরোপে পৌঁছেছেন। একই বছরে গ্রিসের জলসীমায় ১০৭ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।