আদাবরের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আদাবরের ঘটনা আমরা শুনেছি। খোঁজ নিয়ে রিপোর্ট সাবমিট করতে বলা হয়েছে। যদি সেরকম কিছু হয় তাহলে আমরা এসব বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবো। অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আদাবরের ১৭ নম্বর রোডে একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ সময় তারা কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পর এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন। পরে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন- মারুফ ও হাসান। আরও পড়ুনঅন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হবে পহেলা বৈশাখের আগেই শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন  স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আবির এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় আকস্মিকভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা হামলা চালায়। এ সময় ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন।  জানা যায়, রাসেল ওরফে কালা রাসেল নামের স্থানীয় এক কিশোর গ্যাং সদস্য ঈদ উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেন। দিতে অস্বীকার করায় সন্ধ্যায় রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য কারখানায় হামলা চালায়। এ সময় কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে রাত সাড়ে ১০টায় আদাবর থানা ঘেরাও করেন এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের আদাবর থানার সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আরও বলেন, রাসেল ওরফে কালা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বরের বাসায় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। এরপর সেখান থেকে শ্রমিকরা বিচারের দাবিতে থানার সামনে জড়ো হয়। আবির এমব্রয়ডারির মালিক জহির এরই মধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। টিটি/কেএসআর