রমজান মাস শুরু হলেই আমরা দেখতে পাই মানুষের জীবনে আকস্মিক পরিবর্তনের ছোট ছোট চিহ্ন। যারা সারা বছর নামাজে অবহেলা করেছে, তারা হঠাৎ মসজিদে চলে আসে।যারা কুরআন তিলাওয়াত করতে ভীতিবোধ করত, তারা প্রতিদিন আল্লাহর কথা পড়তে শুরু করে। যারা আগে গাফেল ছিল, তারা হঠাৎ দ্বীনের পথে ফিরে আসে। অনেক সময় মানুষ এগুলোকে হালকা করে দেখে, হেসে বলে, এরা তো শুধু রমজানের মুসলিম। কিন্তু ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের পরিবর্তনকে ছোট বা তুচ্ছ বলা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটি আল্লাহর রহমতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। রমজান হলো রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের মাস। এই সময় আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অতুলনীয় দয়া প্রদর্শন করেন। শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, আর মানুষের অন্তর নরম হয়ে যায়। এই পবিত্র মাসের পরিবেশে অনেকের হৃদয় পরিবর্তিত হয়, এবং তারা হঠাৎ হেদায়াতের পথ খুঁজে পায়। যে মুহূর্তে মানুষ তওবার পথ ধরে, সেটি আল্লাহর বিশেষ দয়া এবং বান্দার অন্তরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের পরিচয়। আরও পড়ুন: সেহরি না খেয়ে কি রোজা রাখা যাবে? ইসলামে তওবার দরজা সবসময় খোলা। জীবন যতই দীর্ঘ হোক বা গুনাহ যতই বড় হোক, ফিরে আসার সুযোগ সর্বদা থাকে। কেউ যদি সারা বছর পাপে লিপ্ত থেকেও রমজানে হঠাৎ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, ইসলাম তাকে খারাপভাবে বিচার করে না। বরং তাকে উৎসাহিত করা, পাশে থাকা, এবং তার প্রেরণাকে ধরে রাখা ইসলামের শিক্ষা। এই মুহূর্তই প্রমাণ করে যে, মানুষ পরিবর্তন করতে পারে, এবং আল্লাহর রহমত যে কেউকে খুঁজে পেতে পারে, এমনকি অন্ধকারের মধ্যে থেকেও। এই হঠাৎ ইসলামী হওয়া মানুষের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। অনেক সময় আমরা ভাবি, ছোট একটি পদক্ষেপ বা অল্প সময়ের ইবাদত কি স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে? ইসলাম এ বিষয়ে জানায়, ছোট শুরুই বড় হেদায়াতের পথের সূচনা। একটি নামাজ, একটি কুরআন পাঠ, অথবা একটি খোদার স্মরণের মুহূর্ত মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রমজানের পর সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয় কি না, সেটাই আসল পরীক্ষা, কিন্তু শুরুই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুরু ছাড়া কখনোই কোনো পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। রমজান মাসে হঠাৎ ইসলামী হওয়া কেবল আল্লাহর রহমতের পরিচায়ক নয়, এটি মানুষের অন্তরের জীবন্ত দৃষ্টান্ত। আমাদের উচিত এই পরিবর্তনকে সমর্থন করা, বিদ্রূপ না করা, এবং যারা ফিরেছেন তাদের পাশে থাকা। আমরা যদি তাদেরকে উৎসাহিত করি, তাদের প্রতি দোয়া করি, তারা অনেক দ্রুত স্থায়ী ইসলামী জীবনযাত্রার দিকে এগোতে পারে। রমজান শুধু রোযা ও ইবাদতের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মসমীক্ষা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্গঠনের মাস। এই পবিত্র মাসে হঠাৎ ইসলামী হওয়া মানুষ কেবল নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্যও এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। এমন একটি মানুষ যখন বদলে যায়, তার চারপাশের মানুষও প্রেরণা পায়, একটি ছোট পরিবর্তন অনেক বড় সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। শেষে বলা যায়, হঠাৎ ইসলামি হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা আল্লাহর দয়া, রহমত এবং বান্দার অন্তরের নরম হওয়ার প্রমাণ। এটা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়, বরং শুরুতে ধৈর্য ধরে এগিয়ে চলা ও অনুপ্রেরণা পাওয়ার মুহূর্ত। আমরা যদি এই পরিবর্তনকে সঠিকভাবে উৎসাহিত করি, তা ইনশাআল্লাহ ব্যক্তির জন্য এবং সমাজের জন্য বরকতময় হবে। রমজান মানুষকে শুধু রোযা রাখতে শেখায় না; এটি নতুনভাবে জীবনের দিকনির্দেশ দেয়, অন্তরকে আলোকিত করে, এবং হৃদয়কে খোদার নিকট নিয়ে যায়। লেখিকা: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ