ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায় না বলে মন্তব্য করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে অর্থায়নও শেষ হয়ে যাবে। তাই ইউক্রেন চায় যুদ্ধ যেন না থামে। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন, হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ায় এখনো ‘সাধারণ বুদ্ধি’ কাজ করছে এবং তারা নিজেদের পরিবারের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলে বিলিয়ন ইউরো অন্যের যুদ্ধে পাঠাতে চায় না। তার ভাষায়, ‘এখনই শান্তির সময়’। ওরবানের এই অবস্থান ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন নয়। তিনি বরাবরই ইউক্রেনকে বড় অঙ্কের সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলেছেন। তবে ইউক্রেন ও তাদের সমর্থক দেশগুলো বলছে, এটি শুধু অর্থের প্রশ্ন নয়; তারা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই করছে। এদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আজ রোববার ১৫৫৯তম দিনে গড়িয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। যুদ্ধে নতুন করে প্রাণহানি ও হামলার খবর এসেছে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। আরও পড়ুন: ইতালির স্পন্সর ভিসা: ‘ক্লিক ডে’ ত্রুটিতে মিলছে না ভিসা, বাড়ছে অবৈধ শ্রমিক আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরও রয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আলাদা হামলায় ৭৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হন। ওডেসা অঞ্চলে রুশ হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, গাড়ি ও একটি জ্বালানি স্থাপনা। দেনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও আরেক হামলায় ৭৭ বছর বয়সি একজন আহত হন। দোনেৎস্ক অঞ্চলে সারাদিনে ১৮টি গোলাবর্ষণের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন টেলিগ্রামে জানান। সামনের সারির বসতি এলাকা থেকে ৫৬২ জনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৪৪ জন শিশু। সুমি অঞ্চলে মার্কিন খাদ্য কোম্পানি মোনডেলেজ ইন্টারন্যাশনাল-এর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রাশিয়া ইউরোপে মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তার মতে, উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংলাপের কথা বলতে পারে না। আরও পড়ুন: ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়ার মুখে অ্যান্ড্রু! খেরসন অঞ্চলে গোলাবর্ষণে দুই পুলিশ সদস্য ও একজন বেসামরিক আহত হয়েছেন। তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, ১৮টি বাড়ি, একটি হাসপাতাল ও বেশ কিছু সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের হত্যাচেষ্টার প্রস্তুতি নেয়া রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের নিষ্ক্রিয় করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরআইএ জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে রুশ বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের কারপিভকা গ্রাম দখলে নিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও তিন বছর বয়সি এক শিশু আহত হয়েছে বলে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে। আরও পড়ুন: সুইডেনের নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ ইরান ছাড়ার নির্দেশ ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ বলেছে, তাদের নিজস্ব তৈরি ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার উদমুর্তিয়া অঞ্চলের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং সামারা অঞ্চলের একটি গ্যাস প্লান্টে আঘাত হেনেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষেই বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে।