অবশেষে ৭ বছর পর মামলা, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ আসামি ১৪

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার সময় বিএনপিকর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন।মামলার বাদী মো. মশিউল আলম খান পলাশ বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।আসামিরা হলেন: সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাজোট প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া, বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদি হাসান মোল্লা, কনস্টেবল ফয়জুল।আরও পড়ুন: সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তিন মাসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশমামলার বাদী যুবদল নেতা পলাশ বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়টা দলের জন্য দুঃসময় ছিলো। বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার কোনো নেতাকর্মীকে নিয়ে প্রচারণায় যেতে পারেননি। তখন তিনি সার্বক্ষণিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় লিফলেট বিতরণের জন্য তিনি ও প্রার্থী রওনা হন। এ সময় তিন দিক থেকে তাদের স্পিডবোটে ধাওয়া করা হয়।’তিনি আরও জানান, বিশ্বাসের হাট এলাকায় পৌঁছালে নদীর ভিতর থেকে সাদা পোশাকের তাকে অপহরণ করা হয়। পরে চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে রেখে দেয়। সেখানে তার ওপর নির্মম নির্যাতন করা হয়।আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ আমলের ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৭ জন ট্রাইব্যুনালেপলাশ জানান, ঘটনার একটি ‘ভিডিও ভাইরাল হয়েছে’ উল্লেখ করে তারা তাকে হত্যা করেননি। এরপর বন্দর থানায় নিয়ে তাকে মিথ্যা মামলার আসামি করা হয়।পলাশ অভিযোগ করেন, তারা এমনভাবে নির্যাতন করেন যে এখনো মাঝে মাঝে আমার ব্যাক পেইন হয়। এ বিষয়ে গত ৫ অগাস্টের পরে আদালতে মামলা করেছি। আদালত বন্দর থানার ওসিকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন। সর্বশেষ ঘটনাস্থল কোতোয়ালি মডেল থানা দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দয়া হয়। এ প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেয়া হয়। নারাজি দেয়ার পরেও কয়েকটা মাস ঘুরিয়েছে।অবশেষে আজ রোববার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন।