ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় ব্যবসায়ীদের ছোড়া গুলিতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চরলাপাং গ্রামের মেঘনা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধরা হলেন: একই এলাকার নুরুল আমিন, রুপ মিয়া, সফর মিঞা, সিয়াম, ইব্রাহি ও জসিম উদ্দিন।গ্রামবাসীর অভিযোগ, নবীনগরের মেঘনা নদীতে সামিউল ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা তাদের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে চরলাপাং গ্রামে এসে ফসলে জমি কেটে বালু উত্তোলন করে। এতে ওই গ্রামের কৃষিজমিসহ আশপাশের এলাকা তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে৷আজ রোববার সকালে চরলাপাং গ্রামে ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলন করার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ইজারাদারের একদল বালু সন্ত্রাসী পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর এলাকা থেকে স্পিডবোটে এসে এলোপাথাড়ি গ্রামবাসীর ওপর গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ছয় গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।আরও পড়ুন: অবৈধ বালু উত্তোলনে বাঁধা দেয়ায় এলাকাবাসীর ওপর গুলি! পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।এ বিষয়ে গ্রামবাসী সুক্কু মিয়া, মুর্তুজ আলী, মো. মনির হোসেন জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু ব্যবসায়ীরা তাদের নিজের এলাকার ছেড়ে গ্রামের জমিতে নজর দিয়েছে। এতে গ্রামের অন্তত ১০০ একর জমির মাটি কেটে নিয়ে গেছেন ইজারাদাররা। ফলে গ্রামবাসী অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদ্দাম হোসেন জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্রাহ্মণবড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানানবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনে বাধা দেয়া গ্রামবাসীর ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।এ দিকে শর্ত ভঙ্গসহ গ্রামবাসীর অভিযোগ স্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানান, এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে ইজারা বাতিল করা হবে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।