সিরিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটাতে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। আইএসের নতুন এক অডিও বার্তায় সিরিয়াকে তাদের অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।সিরিয়ায় আসাদ-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই বড় ধরনের নাশকতার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ‘আইএস’। প্রায় দুই বছর বিরতির পর সংগঠনটির মুখপাত্র এক অডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন। আইএসের দাবি, সিরিয়া এখন বিদেশি শক্তির হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। এই ‘নতুন ধাপের’ অভিযানের অংশ হিসেবে এরইমধ্যে দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা শুরু করেছে তারা। মাঠপর্যায়ে আইএসের এই তৎপরতা এখন আর কেবল হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গত শনিবার রাক্কা ও মেয়াদিন শহরে আলাদা দুটি হামলায় সিরীয় সেনাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে। গোষ্ঠীটি এরইমধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সিরিয়া ছাড়ছে মার্কিন সেনারা! সিরিয়ার সামরিক সূত্রের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, গত নভেম্বরে সিরিয়া যখন আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটে যোগ দেয় এবং ওয়াশিংটনের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তখন থেকেই এই গোষ্ঠীটি তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করে নতুন সরকারকে টার্গেট করতে শুরু করে। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী দফতরের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং তার মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যদের ওপর এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচবার প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা চালিয়েছে আইএস। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় গোপনে থাকার পর আইএস এখন আবার সিরিয়াকে তাদের প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ইরাক ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের যোদ্ধাদের আবারও সিরিয়ায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।