এত চাপেও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করছে না, কৌতূহল জেগেছে ট্রাম্পের মনে

সামরিক চাপ বৃদ্ধির পরও ইরান এখনো নতি স্বীকার করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হচ্ছে না। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনে কৌতূহল জেগেছে। এ কথা জানিয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। শনিবার ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প-এ সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, আমি ‘হতাশ’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না, কারণ তিনি (ট্রাম্প) জানেন তার হাতে অনেক বিকল্প আছে। তবে তিনি কৌতূহলী—কেন ইরান এখনো নতি স্বীকার করেনি। উইটকফ বলেন বলেন, এত চাপ, এত নৌ ও সামুদ্রিক শক্তি মোতায়েনের পরও তারা (ইরান) কেন আমাদের কাছে এসে বলেনি—‘আমরা অস্ত্র চাই না, তাই আমরা এই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’? তাদের সেই অবস্থানে আনাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সামরিক সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি পরিত্যাগ করুক—যা ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপের দাবিও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি পারমাণবিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে তারা রাজি নয়। উইটকফ বলেন, তারা বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে—৬০ শতাংশ পর্যন্ত। তারা হয়তো এক সপ্তাহ দূরে রয়েছে শিল্পমানের বোমা তৈরির উপাদান পাওয়ার কাছাকাছি—যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। রোববার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনায় এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। উইটকফ আরও জানান, ট্রাম্পের নির্দেশে তিনি ইরানের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র। এ বৈঠকের বিস্তারিত তিনি জানাননি। দেশের বাইরে অবস্থানকারী পাহলভি সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় বিরোধী সমর্থকদের কাছে এক প্রতীকী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। গত মাসের বিক্ষোভে হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পাহলভি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ প্রাণ বাঁচাতে পারে এবং পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তেহরানের শাসকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানান। সূত্র: রয়টার্স এমএসএম