মাদারীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

মাদারীপুরে ইতালি প্রবাসীর বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার দুইদিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীর পরিবার।এদিকে হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভুক্তভোগী মিলন মাতবর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বিরঙ্গল গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক মাতবরের ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত শামীম মাতবর একই গ্রামের সাহেব আলী মাতবরের ছেলে।জানা যায়, সদর উপজেলার বিরঙ্গল গ্রামের মিলন মাতবরের সঙ্গে প্রতিবেশী শামীম মাতবরের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ জমিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিক নিয়ে পানির ট্যাংক নির্মাণ করতে যান মিলন। এতে শামীম বাধা দেয়। পরে শামীম তার লোকজন নিয়ে ইতালি প্রবাসী মিলনের বসতঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বসতঘর। বাধা দেয়ায় মিলন ও তার মা ছমিরন নেছাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। আরও পড়ুনন: মাদারীপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা মামলায় ২ ভাই গ্রেফতারএ ঘটনায় সদর মডেল থানায় ওইদিনই মিলনের বড়বোন সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দেন। তবে, ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এ ঘটনার দোষীদের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শামীম মাতবর। এদিকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।প্রবাসী মিলন মাতবর বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে ছিলাম। অল্প কিছুদিন পূর্বে দেশে এসেছে। শামীমের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে মামলাও চলছে। কিন্তু কারণে-অকারণে আমাদের পরিবারের ওপর প্রায়ই আক্রমণ করতে আসে। দুইদিন আগেও হামলা চালিয়েছে। যার একটি ভিডিও রয়েছে। আমি ও আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’আরও পড়ুন: মাদারীপুরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, চার ঘণ্টায় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণমিলনের বড়বোন সেলিনা আক্তার বলেন, ‘দিনদুপুরে এভাবে ইটপাটকেল মেরে হামলা চালাবে বুঝতে পারিনি। থানায় অভিযোগ দেয়ার পর আমাদের নামে উল্টো অভিযোগ দেয় প্রতিপক্ষ। পুলিশ তদন্তে আসে যায়, কিন্তু আইনগত কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।’অভিযুক্ত শামীম মাতবর বলেন, ‘আমি বা আমার লোকজন এই হামলা চালায়নি। তবে, মিলন তার আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আমাদের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত চলছে। কারো দোষ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’