দৃষ্টিনন্দন এ মডেল মসজিদে একসঙ্গে নামাজ পড়েন ৩ হাজার মুসল্লি!

নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাদারীপুর জেলা মডেল মসজিদ। শহরের শকুনি লেকেরপাড়ে অবস্থিত এই মসজিদ-এ একসঙ্গে আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। এতে খুশি মুসল্লিরা। ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের ধর্মপ্রাণ মানুষও।নামাজ আদায় করতে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য জানান, জেলার পুরনো ঐহিত্যবাহী মজসিদগুলো দ্রুত সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ-এ রূপান্তর করা হবে।সরেজমিনে দেখা যায়, বাইরে থেকে মাইকে ভেসে আসছে আজানের সু-মধুর ধ্বনি। নামাজ পড়তে মসজিদে আসার জন্য মুসল্লিদের আহ্বান করা হচ্ছে। দল বেঁধে ছুটে আসছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এই দৃশ্য মাদারীপুর শহরের শকুনি লেকেরপাড় অবস্থিত জেলা মডেল মসজিদ-এর।জানা যায়, ১৮৫৪ সালে মাদারীপুর মহকুমা প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জেলা সদর জামে মজসিদ। সবশেষ ২০১৯ সালের মে মাসে পুরনো মসজিদটি ভেঙে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় তিনতলাবিশিষ্ট ভবন। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির নাম দেয়া হয় জেলা মডেল মসজিদ। নির্মানের পর নানা কারনে বন্ধ ছিল এর কার্যক্রম। গত ৩রা জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় মসজিদটি।মসজিদটি দেখতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন স্থান থেকে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসা লোকজন যে যার মতো ছবি তুলে সময় পার করছেন। শহরের কোলঘেঁষে নির্মাণ হওয়া মসজিদ-এ দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো হানাহানি দেখতে চান আগত মুসল্লিরা। আরও পড়ুন: রোজা না রেখে মসজিদের ইফতার খাওয়া যাবে?এদিকে জেলার অন্যান্য মসজিদ-এর উন্নয়নও চান তারা। জেলা মডেল মসজিদ-এ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন আড়াই থেকে তিন হাজার মুসল্লি। শুক্রবার জুমার দিনে ভেতর জায়গা না হওয়ায় মসজদি-এ বাইরেও নামাজ আদায় করেন অনেকেই।নামাজ পড়তে আসা মো. সফিকুল ইসলাম নামে এক মুসল্লি বলেন, ‘শহরের মধ্যে এতো সুন্দর একটি মসজিদ নির্মাণ, সত্যিই খুবই অসাধারণ। জেলার সুনাম বাড়িয়ে দেয় মসজিদটি। এখানে নামাজ আদায় করতে পেরে ধন্য।’শহরের ডিসি ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেন সেন্টু খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন মসজিদ-এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের উদ্যোগে চালু হয়েছে। এখানে একসঙ্গে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। আমি প্রতিনিয়তই এখানে এসে নামাজ আদায় করি। সত্যিই ভাল লাগে।’মাদারীপুর জেলা মডেল মসজিদ-এর মুয়াজ্জিন আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শুধু রমজান মাসেই নয়, সারাবছর আজানের ধ্বনির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজের জন্য আহ্বান করি। এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। আল্লাহ’র ঘরে এসে সবাই প্রার্থনা করে দেশ ও জাতির শান্তি এবং মঙ্গল হোক। সমাজের সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারি। দেশে আর কোনো হানাহানি আমরা কেউই প্রত্যাশা করি না।’মসজিদ-এ নিয়মিত নামাজ আদায় করেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। আরও পড়ুন: আল্লাহর রহমতের সুন্দর মুহূর্ত রমজানএ সময় তিনি বলেন, জেলার ঐতিহ্যবাহী পুরনো মসজিদগুলো সংস্থারের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দৃষ্টিনন্দন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আরও বলেন, মাদারীপুরবাসীর কাছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। জেলার সুনাম দেশের বাইরেও যাতে ছড়িয়ে পড়ে সে ব্যাপারে ইতিহাস-ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। খুব শিগগিরই মসজিদ-এর তালিকা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।