কখনো মমতাজ, কখনো মারুফা। কখনো রোজিনা, কনা কিংবা নূরজাহান; এগুলো সবই ছদ্মনাম। যদিও তার আসল নাম বিলকিস। গৃহকর্মীর পরিচয়ে বাসায় কাজ নিয়ে কৌশলে চেতনানাশক খাইয়ে সর্বস্ব লুট করাই ছিল তার কাজ। রাজধানীর উত্তরায় আয়েশা আক্তার হত্যার রহস্য উদঘাটনের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে পলিথিনের ব্যাগ হাতে বের হতে দেখা যায় এক নারীকে। পুলিশ জানায়, ওই নারীর নাম বিলকিস, পেশায় গৃহকর্মী। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গৃহকর্তা ও গৃহকর্তীকে পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক গৃহকর্ত্রী আয়েশা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার স্বামীকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীর ছেলে মনোয়ার হোসেন বলেন, মা খুব শৌখিন মানুষ ছিলেন এবং স্বর্ণালংকার পছন্দ করতেন। কিন্তু ঘটনার পর তার মায়ের গায়ে থাকা কোনো স্বর্ণালংকার আর পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন: চেতনানাশক পানিতে গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু, স্বর্ণ-টাকা নিয়ে পালান বিলকিস: পিবিআই এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ময়মনসিংহ, জামালপুর ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন দুজনকে গ্রেফতার করে। একজন বিলকিস, অন্যজন একজন জুয়েলারি দোকানের মালিক। পিবিআই বলছে, বিলকিস একজন পেশাদার অপরাধী। এখন পর্যন্ত তার ছয়টি ভিন্ন নাম পাওয়া গেছে। ঢাকা মেট্রো উত্তর পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, একই ধরনের পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিলকিসের ছবি সংগ্রহ করা হয়। সেই ছবি ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের দেখানো হলে ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ তাকে শনাক্ত করেন। পিবিআই জানিয়েছে, বিলকিসের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। পরিচয় গোপন করে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে চুরি করাই ছিল তার কৌশল। অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, এর আগেও তিনি গ্রেফতার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। তবে আইনের ফাঁকফোকরে তিনি বেরিয়ে আসতেন। পুলিশ গৃহকর্মী নিয়োগের আগে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছে। এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গৃহকর্মী নিয়োগের সময় তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ও সংরক্ষণ করা উচিত।