প্রায় চার বছর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জাতীয় টেলিভিশনে ঘোষণা দেন যে, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে পরিচিত এই যুদ্ধ এখন এত দীর্ঘ হয়েছে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার অংশগ্রহণের সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও রাশিয়ার স্বাধীন গণমাধ্যম মিডিয়াজোনার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যুদ্ধে নিহত রুশ সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি। এই সংখ্যা ১৯৮০–এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত যুদ্ধের পুরো সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি। অন্যদিকে ইউক্রেন থেকে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। যারা দেশে আছেন, তারা তীব্র শীতের মধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন। এই চার বছরে রাশিয়ার ভেতরে কী পরিবর্তন এসেছে? ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশটির মানুষের জীবন কীভাবে বদলেছে? এসব জানতে আল জাজিরা দেশটির ভেতর ও বাইরে থাকা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে। জীবন কেটে যাচ্ছে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা, যেমন কুরস্ক ও বেলগোরোদ অঞ্চল, নিয়মিত গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা এমনকি ইউক্রেনীয় বাহিনীর স্থল অভিযানও প্রত্যক্ষ করেছে। এক সময় কুরস্কের কিছু অংশ সাময়িকভাবে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণেও চলে যায়। ২৫ বছর বয়সি বেন হিগিনবটম, যিনি ইউটিউবে ‘বেন দ্য ব্রিট’ নামে পরিচিত, ২০২১ সালে তার রুশ স্ত্রীকে নিয়ে কুরস্কে বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এক বছর আগেও যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী এই এলাকায় ছিল, দিনে একাধিকবার হামলা হতো। আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয় মানুষ এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, আমিও। প্রতিটি হামলায় কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়াত না। তাহলে স্বাভাবিক জীবন যাপনই করা যেত না।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় অন্তত ৪৫৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের দেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলোও অনেকের কাছে বড় সমস্যা হয়ে ওঠেনি। ৩০ বছর বয়সি মস্কোর বাসিন্দা আন্দ্রেই বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে। আমি অবাক হয়ে গেছি। ইউরোপের মতোই সবাই দাম নিয়ে অভিযোগ করছে। শুধু কিছু বিয়ার, সিগারেট আর চকলেট কিনলেও কমপক্ষে ১ হাজার রুবল খরচ হয়ে যায়। কিন্তু মস্কোয় মানুষের কেনার ক্ষমতা খুব একটা কমেনি। সুপার মার্কেটের ক্যাফেতে বাচ্চাদের লাইন লেগেই থাকে। শহরজুড়ে ট্যাক্সি আর ডেলিভারি চালকের ভিড়।’ তবে কিছু পরিবর্তন অবশ্যই হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের ৩৯ বছর বয়সি এক ফটোগ্রাফার, কিরিল (পূর্ণ নাম প্রকাশ করতে চাননি), বলেন, ‘আগে যেসব ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতাম, এখন সেগুলো পাওয়া কঠিন। রিসেলারদের কাছে পাওয়া যায়, কিন্তু দাম বেশি এবং দোকানে সরাসরি বিক্রি হয় না।’ তিনি জানান, কিছু দক্ষিণ কোরীয় ব্র্যান্ড আবার রাশিয়ায় ফিরেছে। যেমন এলজি ব্র্যান্ডের ওয়াশিং মেশিন ও ফ্রিজ এখন আবার পাওয়া যাচ্ছে। চীনা পণ্যও আছে, তবে আগের জার্মানি বা পোল্যান্ড থেকে আসা প্রযুক্তিপণ্যের মতো মানসম্মত নয় বলে তার মন্তব্য। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি অ্যাপ বা অনলাইন পেমেন্টে সমস্যার সমাধানে কিরিল কিরগিজস্তানে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তার মতে, এটি বড় বাধা নয়, তবে ঝামেলা তো বটেই। তবে নিজের সরকারের আরোপ করা বিধিনিষেধ নিয়ে তিনি বেশি উদ্বিগ্ন। ২০২২ সালের পর থেকে রুশ প্রেসিডেন্টে কার্যালয় ক্রেমলিন ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগে কঠোর আইন করেছে। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ইউটিউব ব্যবহারে বাধা দেয়া হয়েছে, আর এর বদলে রাষ্ট্র-সমর্থিত রুটিউব ও ম্যাক্সের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। কিরিল বলেন, ‘প্রথমে ফেসবুক বন্ধ হলো, তখন অনেকেই ভিপিএন ব্যবহার শুরু করল। পরে ইউটিউবও বন্ধ করা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য এসব নিষেধাজ্ঞা শুধু জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। তরুণরা এটাকে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে, আর বড় হয়ে তারা রাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ হবে।’ যুদ্ধ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ার ভেতরে এখনও এই যুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন আছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরোধী মত প্রকাশকে আইন করে অপরাধ বানানো হয়েছে বলে এসব জরিপ কতটা নির্ভরযোগ্য, তা বলা কঠিন। দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার সারাতোভের ৩০ বছর বয়সি ভ্লাদিস্লাভ জানান, তার ভাই এক মাস আগে রুশ সেনাবাহিনীতে ড্রোন চালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এখন রুশ বাহিনী বাধ্যতামূলক সৈন্যের বদলে ভালো বেতন দিয়ে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করছে। ভ্লাদিস্লাভ শুরুতে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে মনে হয়েছিল এটা ভুল। ‘ডিনাজিফিকেশন’ বলে কী বোঝাচ্ছে?’ রাশিয়ার সরকার দাবি করে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন সরকার নব্য-নাৎসি প্রভাবিত এবং সেই কারণেই এই সামরিক অভিযান। পরে ভ্লাদিস্লাভের মত বদলায়। তিনি বলেন, কিছু ইউক্রেনীয় সেনার ইউনিফর্ম বা পতাকায় স্বস্তিকা বা এসএস চিহ্ন দেখার পর তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে। তার ভাষায়, তার দাদা-দাদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক ছিলেন, তাই তিনি বিষয়টি আবেগ দিয়ে দেখেন। এখন তিনি প্রকাশ্যে রাশিয়ার যুদ্ধের পক্ষে। তার আশা, তার ভাই যুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের ফটোগ্রাফার কিরিলের শুরুতে যুদ্ধ নিয়ে সন্দেহ ছিল। তার মনে হয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হওয়া রাশিয়ার কূটনৈতিক ব্যর্থতা। এখনো জনসমক্ষে যুদ্ধ-সমর্থক প্রতীক দেখলে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। তবে সময়ের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গিও কিছুটা বদলেছে। তিনি বলেন, ‘বিদেশি সংবাদমাধ্যম আর উদারপন্থি বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, রুশ অর্থনীতি দুই সপ্তাহের বেশি টিকবে না। অথচ চার বছর পরও সবকিছু চলছে। যারা এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাদের প্রতি আমাদের মনোভাব কী হবে?’ কিরিলের মতে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে মাঝপথে থামা কঠিন। ‘আমি যুদ্ধ সমর্থন করি না, কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা পুরোপুরি হার মেনে নেওয়ার পক্ষেও নই। অনেকেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে, কিন্তু পুরোপুরি পরাজয়ও চায় না, কারণ তাতে তাদের নিজের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এর সঙ্গে আছে এক ধরনের উদাসীনতা। ইতিহাসের মতো এখনও অনেক রুশ নাগরিক দৈনন্দিন জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত, ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে কম ভাবেন। মস্কোর বাসিন্দা আন্দ্রেই বলেন, ‘সবাই যেন অস্বীকার করে চলছে। আমার আশপাশের বেশিরভাগ মানুষ রাজনীতি এড়িয়ে চলে, খবরও দেখতে চায় না।’ যুদ্ধ ছেড়ে পালানো সবাই যে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে, তা নয়। সাইবেরিয়ার কেমেরোভোর ৩৮ বছর বয়সি ট্রাকচালক আলেক্সান্ডার মেদভেদেভের ক্ষেত্রে বাস্তবতা বদলে দেয় সবকিছু। তিনি বাধ্যতামূলক ১২ মাসের সামরিক সেবা শেষ করেছিলেন, এর আগে সিরিয়াতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তাকে ডাকা হয় এবং অভিজাত ইউরাল ব্যাটালিয়নে মেশিনগানার হিসেবে একটি সহায়ক প্লাটুনে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর আমাদের বলা হয়েছে, ইউক্রেন নাৎসিবাদ আর রাশিয়া-বিদ্বেষে ভরা।’ তার ধারণা ছিল, এটি পুরো ইউক্রেনের জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং সেখানকার সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযান। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তার ইউনিট পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে যায়। তারা একটি পরিত্যক্ত খনিতে ঘাঁটি গড়ে। মেদভেদেভ মনে করেন, সহায়ক প্লাটুনে থাকা তার জন্য ভাগ্যের বিষয় ছিল, কারণ সামনের সারির হামলা দলগুলো এক ঘণ্টার লড়াইতেই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতাহত হতো। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ইউক্রেনীয় গ্রামগুলো দিয়ে যাওয়া এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার পর তার মনে প্রশ্ন জাগে। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারলাম, এমন এক যুদ্ধে লড়ছি যার প্রয়োজন কারও নেই। এতে কারও মঙ্গল হবে না, শুধু লাশের স্তূপ, বিধবা, এতিম আর শোকে ভেঙে পড়া মা-বাবা বাড়বে।’ ২০২৩ সালের ৭ জুলাই তিনি অনুমতি ছাড়া সেনা ইউনিট ছেড়ে দেন এবং নিজ শহরে ফেরার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘ফিরে আসার পর কয়েক মাস আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কোথাও যুদ্ধ চলছে, অথচ সাইবেরিয়া বা উরাল অঞ্চলে মানুষ এমনভাবে জীবন কাটাচ্ছে যেন কিছুই হয়নি।’ পোস্ট ত্যাগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে বুঝে তিনি ‘গেট লস্ট’ নামের একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা খসড়া এড়িয়ে যাওয়া বা সেনা ছেড়ে পালানো ব্যক্তিদের সহায়তা করে। তাদের সহায়তায় তিনি দেশ ছাড়তে সক্ষম হন। এখন বিদেশে থেকে তিনি বলেন, ‘আমি আমার দেশকে খুব মিস করি। একদিন ফিরতে চাই, তবে এমন এক রাশিয়ায়, যেখানে মানুষ শান্তিকে সত্যিকারের মূল্য দেবে।’ ‘পালাও, যত দ্রুত সম্ভব’ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুদ্ধ শুরুর প্রথম বছরেই প্রায় ২০ লাখ রুশ নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অনেক তরুণ, যারা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ভয়ে পালিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট পুতিনের কড়া সমালোচক ছিলেন। রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর ইয়েকাতেনবার্গ-এর ৩৫ বছর বয়সি মাইকও সেই দলে ছিলেন। তিনি ছোট একটি ব্যাগ গুছিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, ‘যেভাবেই হোক, এখান থেকে বের হতে হবে।’ এখন তিনি জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বসবাস করছেন। সেখানে প্রবাসী রুশদের একটি কর্মীদলের সঙ্গে যুক্ত আছেন, যারা এখনো রাশিয়ায় থাকা মানুষদের সহায়তা করে। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলো এবং রুশ উদারপন্থি বিরোধী রাজনীতির প্রতিও কিছুটা হতাশ হয়েছেন। তার কথায়, গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভূমিকা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তার মতে, যদি পশ্চিম সরাসরি আরও শক্তভাবে হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে কোনো সমঝোতাই হয়তো বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে, যদিও তাতে ইউক্রেনের পরাজয় স্বীকার করতে হতে পারে। মাইক বলেন, ‘চার বছর পর পরিস্থিতি খুবই কঠিন দেখাচ্ছে। শীতকালে ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে পুতিনের সরকার যে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে, তাতে বোঝা যায় তারা লক্ষ্য অর্জনে কতদূর যেতে পারে।’ তবে বিদেশের জীবনও সহজ নয়। ভাষা, কাজ পাওয়া, নতুন সমাজে মানিয়ে নেয়া—সবকিছুই চ্যালেঞ্জের। অনেক রুশ প্রবাসী ইতিমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন। জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। মাইক বলেন, ‘এখানে জীবন মোটামুটি ভালোই। কিন্তু আমি সবসময় আমার অভিবাসী পরিচয়টা অনুভব করি। রাশিয়া ছাড়ার পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল না। আবার ফিরে যাওয়ার স্বপ্নও দেখি না।’