বদলে দিচ্ছে কনটেন্টের ধারণা, আয়ের নতুন পথ দেখাচ্ছে এআই

ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট তৈরির ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এখন আর কনটেন্ট মানেই ক্যামেরা, অভিনেতা বা বড় প্রোডাকশন টিম নয় এআই প্রযুক্তির সাহায্যে একজন নির্মাতাই পুরো ভিডিও তৈরি করতে পারছেন। বিশেষ করে ইউটিউব ও ফেসবুক-এ এমন অনেক ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে যেখানে বানর, বিড়াল বা সিংহের মতো প্রাণীদের চরিত্র বানিয়ে গল্প বলা হয়। এসব ভিডিওর ভিউ লাখ ছাড়িয়ে কোটি হচ্ছে, আর নির্মাতারাও পাচ্ছেন উল্লেখযোগ্য আয়। এআই কনটেন্ট এত দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, এতে খরচ কম লাগে অ্যানিমেশন বা ভিজ্যুয়াল গল্প বানাতে আগে যেখানে বড় স্টুডিও দরকার হতো, এখন একটি কম্পিউটার ও কিছু সফটওয়্যারেই কাজ সম্ভব। দ্বিতীয়ত, সময় বাঁচে; স্ক্রিপ্ট লেখা থেকে ভয়েস তৈরি, চরিত্র ডিজাইন সবকিছু কয়েক মিনিটেই হয়ে যায়। তৃতীয়ত, এসব ভিডিও সাধারণত ছোট, আকর্ষণীয় এবং দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম, ফলে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমও এগুলো বেশি প্রচার করে। এছাড়া একই ভিডিও বিভিন্ন ভাষায় তৈরি করে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছানোও সহজ হয়ে গেছে। এই প্রযুক্তি কনটেন্ট নির্মাতাদের আয়ের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। একজন নির্মাতা দিনে একাধিক ভিডিও তৈরি করতে পারছেন, একই কনটেন্ট বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করতে পারছেন এবং বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় বাড়াতে পারছেন। ফলে অনেকেই এটিকে ফুল-টাইম পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। কম বিনিয়োগে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় নতুন নির্মাতাদের প্রবেশও বাড়ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কি সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট পুরোপুরি বদলে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তন অবশ্যই হবে, কিন্তু তা হবে ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে। ভার্চুয়াল বা এআই-নির্ভর কনটেন্ট বাড়বে, ফেসলেস চ্যানেল জনপ্রিয় হবে এবং একক নির্মাতারা ছোট স্টুডিওর কাজ একাই করতে পারবেন। তবে মানুষের সৃজনশীলতা, মৌলিক গল্প বলার দক্ষতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক কনটেন্টের মূল্য কখনো কমবে না। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ হবে মানুষ ও এআইয়ের যৌথ সহযোগিতার যুগ। অবশ্য এই প্রবণতার সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অতিরিক্ত এআই কনটেন্টের কারণে মান কমে যেতে পারে, ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়াতে পারে, মৌলিক নির্মাতাদের প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে এবং প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন নীতিমালা আনতে পারে। তবুও প্রযুক্তির অগ্রগতির ধারা দেখে বলা যায়, আগামী কয়েক বছরে কনটেন্ট ইকোসিস্টেম আরও পরিবর্তিত হবে ব্যক্তিগতকৃত ভিডিও, রিয়েল-টাইম জেনারেটেড গল্প, ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিডিও হবে নতুন বাস্তবতা। আরও পড়ুনসোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেওএআই দিয়ে বানানো নাকি আসল ছবি চিনবেন যেভাবে কেএসকে