বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ইরান

ইরানজুড়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের এক মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় খুলে দেয়ার পর রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের ভেতরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। স্থানীয় সময় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানতেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমিরকবির বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সরকার সমর্থকদের মধ্যে অনেকেই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট আধাসামরিক বাসিজ সংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে। বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ধাক্কাধাক্কির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আরও পড়ুন: উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলী পবিত্র শিয়া নগরী মাশহাদের ফেরদৌসি বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। গত জানুয়ারিতে এখানে ব্যাপব বিক্ষোভ হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থীদের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া করার দৃশ্য দেখা গেছে। এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ এর বরাতে জানা যায়, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ বা তার নিচে নামাতে রাজি হয়েছে তেহরান। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে সম্মত নয় দেশটি। এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শিগগিরই উপস্থাপন করবে ইরান। আরও পড়ুন: ইউরোপের দেশগুলোর নৌ ও বিমান বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করল ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক চাপ ও হুমকির মুখেও ইরান কেন এখনও ‘নতিস্বীকার’ করছে না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে দুবার বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধবিমান ও বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টার মধ্যেও তেহরানের অনড় অবস্থানে ট্রাম্প ‘কৌতূহলী’ হয়ে উঠেছেন বলে জানান মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। তবে, তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা চাপের মুখে নতিস্বীকার করবে না। রোববার, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে।