যুদ্ধ এড়াতে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতে রাজি ইরান, বিনিময়ে কী চায়?

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে দেশটির সঙ্গে আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। বিনিময়ে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের স্বীকৃতি চায় তেহরান।দুই দফা আলোচনার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ অবস্থায় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ এক ইরানি কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে তাদের সর্বোচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠানো, বাকি অংশের সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কমানো এবং আঞ্চলিক সমৃদ্ধকরণ কনসোর্টিয়াম গঠনে অংশ নেয়া। বিনিময়ে ইরান চায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু সমৃদ্ধকরণ’-এর অধিকার স্বীকার করুক। পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিতে হবে। এছাড়া, কয়েক দশকের পারমাণবিক বিরোধ নিষ্পত্তির আলোচনায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে তাদের বড় তেল ও গ্যাস খাতে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তা বলেন, আলোচনায় থাকা অর্থনৈতিক প্যাকেজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের তেল শিল্পে গুরুতর বিনিয়োগ ও বাস্তব অর্থনৈতিক স্বার্থের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ইরান হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি চেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ বা তার নিচে নামাতে রাজি হয়েছে তেহরান। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে সম্মত নয় দেশটি। এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শিগগিরই উপস্থাপন করবে ইরান। আরও পড়ুন: উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এদিকে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক চাপ ও হুমকির মুখেও ইরান কেন এখনও ‘নতিস্বীকার’ করছে না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে দুবার বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধবিমান ও বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টার মধ্যেও তেহরানের অনড় অবস্থানে ট্রাম্প ‘কৌতূহলী’ হয়ে উঠেছেন বলে জানান মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে। তবে, তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা চাপের মুখে নতিস্বীকার করবে না। রোববার, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে।