রমজান মাসেই বরিশালের বাজারে চলছে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। সপ্তাহের ব্যবধানে একেকটি পণ্যের দাম বেড়েছে একশ টাকা পর্যন্ত। ফলের বাজার থেকে শুরু করে সবজির বাজার সবখানেই অস্থিরতা। সপ্তাহের তুলনায় ভোগ্য পণ্যের দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ।খেজুর, ফল ও সবজির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। কয়েক দিনের ব্যবধানেই প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ১'শ টাকা পর্যন্ত। এই যেমন রোজাদারের ইফতারের প্রধান অনুসঙ্গ খেজুর। অথচ বাজারে সাধারণ মানের খেজুরও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ টাকার উপরে। আর উন্নত মানের খেজুর তো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালেরই বাইরে। বাজারে আজওয়া খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৫'শ থেকে ৩ হাজার টাকা, মেডজুল ১২'শ থেকে ১৫'শ টাকা, মরিয়ম ১১'শ থেকে ১৪'শ টাকা, জাহিদী ৩'শ ৫০ টাকা ও খুরমা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪'শ টাকা দরে। ফলের বাজারেও একই চিত্র। আঙুর, আপেল, কমলা কিংবা মাল্টা- সবকিছুর দামই কেজিপ্রতি ৩'শ টাকার ওপরে। কালো আঙুর ৫'শ ৫০ থেকে ৬'শ টাকা, সাদা আঙুর ৪'শ ৫০ থেকে ৫০০ টাকা,আপেল ৩'শ ২০ থেকে ৩'শ ৮০ টাকা, আনার ৫'শ ৫০ থেকে ৬'শ টাকা। আর সবজির বাজারে লেবুর দাম বেড়েছে ৩'শ শতাংশ পর্যন্ত। রমজানের আগে লেবুর হালি ২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা ঠেকেছে ৮০ টাকায়। বেগুন ১'শ থেকে ১'শ ২০ টাকা আর কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২'শ থেকে আড়াইশ টাকা কেজি দরে। করল্লা বিক্রি হচ্ছে ২'শ টাকা থেকে ২'শ ২০ টাকা কেজি, শসা ১'শ থেকে ১'শ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ ও মাংসের বাজারে গিয়েও স্বস্তি নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্তের। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮'শ টাকা কেজি দরে, ব্রয়লার মুরগী গত সপ্তাহে ১'শ ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১'শ ৯০ টাকা দরে। আর সোনালী মুরগী সাড়ে তিনশ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর নতুন বাজারের এক নারী ক্রেতা বলেন, 'রমজানের আগের চেয়ে এখন প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এভাবে চলা কষ্টসাধ্য।' পোর্ট রোডে মাংস কিনতে আসা রসুলপুরের সালাম মিয়া বলেন, 'কয়েকদিন আগেও ব্রয়লার মুরগি কিনেছে কম দামে এখন তা দুইশ টাকায় ঠেকেছে।' তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, 'আমদানী কম থাকায় বেড়েছে দাম। সাথে ফলের ওপর বাড়তি কর থাকায় দাম বেড়েছে সকল ফলের ওপর। ফলপট্টি রোডের জামাল ফল হাউজের আশরাফ হোসেন বলেন, 'তিনশ টাকার নিচে কোনো ফল নেই। আমদানি করা প্রতিটি ফলে বাড়তি কর দিতে হয়। আর কোনো ফলের দাম যদি হয় তিন হাজার টাকা সেখানে কর যুক্ত হয় তার দ্বিগুন।' এদিকে গত মঙ্গলবার থেকে নগরীতে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ডাল, ছোলা ও তেলের দামও বাড়তি। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, 'ভোক্তা অধিদফতরকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল্য নিয়ে বাজারে কেউ বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ার দেন তিনি।