চাহিদা বেড়েছে পিরোজপুরের কেমিক্যাল মুক্ত মুড়ির, যাচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে

রমজানে রোজা আর ইফতারে মুড়ি যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ফলে রোজার কারণে পিরোজপুরে বেড়েছে মুড়ির চাহিদা। তাই মুড়ি তৈরিতে দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন এ পেশায় জড়িত শ্রমিকরা।ছোলা, পিয়াজুর সুস্বাদুর বন্ধন মুড়ি। দক্ষিণাঞ্চলের মুড়ি উৎপাদনে পিরোজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। এ জেলার মুড়ি কেমিক্যাল মুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় পিরোজপুরসহ আশে পাশের জেলা গুলোতে রয়েছে মুড়ির ব্যাপক চাহিদা। অনেক ধানেই মুড়ি হলেও মোতাই ও চাপসাই মোটা ধানের মুড়ি খেতে সুস্বাদু। ভৌগলিক কারণে মুড়ি উৎপাদনে পিরোজপুর অনেকটা এগিয়ে। সাধারণত প্রতিদিন জেলায় ৩ হাজার মণ ধানের মুড়ি উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা দ্বিগুনেরও অধিক অর্থাৎ সাড়ে ৬ হাজার মণে এসে পৌঁছেছে। এক মণ ধানে ২৪ কেজি মুড়ি তৈরি হয়। মেশিনে ভাজা প্রতি কেজি মুড়ির বর্তমান পাইকারি মূল্য ৮০ থেকে ৯০ টাকা। যা বাজারে খুচরা বিক্রি হয়  এক’শ থেকে এক’শ দশ টাকায়। আর হাতে ভাজা প্রতি কেজি মুড়ির বর্তমান পাইকারী মূল্য ১০৮ থেকে ১১০ টাকা। যা বাজারে খুচরা বিক্রি হয়  ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। এদিকে রমজান ও মুড়ির দাম ভালো থাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। পিরোজপুরের পার্শ্ববর্তী জেলা বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী সোলাইমান বলেন, পিরোজপুরের মোতাই ধানের মোটা মুড়ি খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই এখান থেকে মুড়ি কিনে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিক্রি করি। পিরোজপুরের মুড়ি ঢাকায়ও পাঠাই। এখানের মুড়ি কেমিক্যাল মুক্ত হওয়ায় বাজারে বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। পিরোজপুর বিসিক এর উপ-ব্যবস্থাপক এইচ এম ফাইজুর রহমান বলেন, এখানে মুড়ি তৈরিতে সার ও ক্যামিক্যালের পরিবর্তে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবে লবনপানি দিয়ে মুড়ি তৈরি হয়। মুড়ির মান ভালো হওয়ায় পিরোজপুর ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা অনেক। তাছাড়া এ জেলায় উৎপাদিত মুড়ি মোটা ও সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা অনেক বেশি। মুড়ির মান ঠিক রাখতে সজাগ বিসিক। এ জেলার ২০টি মুড়ির মিল ও শতাধিক ব্যাক্তি হাতে ভেজে  প্রতিদিন ৫০০ মণ মুড়ি উৎপাদন করে থাকে।