পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশ ও দেশের বাইরে ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে টিম হাফেজ্জী। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং মাঠপর্যায়ের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রমজানের প্রথম দশকে সংস্থাটি দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার অনুদান ও সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।দেশে রমজানের প্রথম চার দিনে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন জেলায় অসহায় আলেম পরিবার, প্রতিবন্ধী পরিবার ও নিম্ন আয়ের মোট ৫০০ পরিবারকে খাদ্যবাজার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য ছিল ২,২৫০ টাকা, এবং এ খাতে ব্যয় হয়েছে ১১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইফতার আয়োজনের জন্য পাঠানো হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা, যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের মুসলমানদের সহযোগিতায় টিম হাফেজ্জী ধর্মপ্রাণ ইউরোপে বসবাসকারী ভাইদের মাধ্যমে সরাসরি মিশরে গাজা ও সুদানের ভূখণ্ডের জন্য ২০ লক্ষ টাকার সহায়তা প্রদান করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিশরে রেজিস্টার্ড এনজিও Egypt Youth Circle–এর মাধ্যমে রাফা বর্ডার দিয়ে আগত মাজলুমদের মাঝে ২০ হাজার ডলারের সহযোগিতা নিয়ে সংস্থার প্রতিনিধিরা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ করবেন। আরও পড়ুন: রোজা না রেখে মসজিদের ইফতার খাওয়া যাবে? পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ রমজান থেকে টানা ১৫ দিন যৌথ উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হবে। বিশেষত রাফা সীমান্ত দিয়ে আগত মাজলুম ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য, জরুরি সহায়তা ও মানবিক সাপোর্ট প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে সুদান সংশ্লিষ্ট সহায়তাও সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও গুণিজনদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংস্থাটি তাদের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমের ভিডিও ডকুমেন্টেশনে তারিখ, দিন ও সময় উল্লেখ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখে। পাশাপাশি দেশের প্রায় সব জাতীয় পত্রিকায় তাদের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে, এবং দেশে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে তাদের কার্যক্রম নিয়ে আলজাজিরা ও বিবিসিতে ভিডিও নিউজ প্রকাশিত হওয়ার তথ্যও জানা যায়। এছাড়া, সংস্থাটি প্রতিবছর ডিভিসি হোল্ডার চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের মাধ্যমে স্বচ্ছ অডিট সম্পন্ন করে সংরক্ষণ করে থাকে। রমজানজুড়ে দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মানবিক এই উদ্যোগে জাকাত, ফিতরা ও সাধারণ অনুদানের মাধ্যমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অসহায় ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে আরও বিস্তৃতভাবে দাঁড়ানো যায়।