রমজান এলো বছর ঘুরে

বছর ঘুরে রমজান এলো আবার। একদিন বাদেই পবিত্র মাহে রমজান। শেষ হবে মুমিনের দীর্ঘ এগারো মাসের অপেক্ষা। শুরু হবে আমলের বসন্তকাল। রহমত, বরকত, আর নাজাতে ভরপুর রমজান মাসজুড়ে চলবে আমলের প্রতিযোগিতা। শেষ রাতের সাহরি, বেলা শেষে ইফতার, ক্লান্ত দেহে এশারের নামাজের পর তারাবিতে পবিত্র কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াত।রমজান মাসের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। এ মাস অন্যান্য মাসের মতো সাধারণ নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা খুব সুন্দর পরিচয় দিয়েছেন মাহে রমজানের। সাথে দিয়েছেন রোজা রাখার নির্দেশও।  আল্লাহ তায়ালা বলেন,  রমজান মাস হলো সেই মাস, যে মাসে নাজিল করা হয়েছে কোরআন; যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ। আর যা ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্যকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে এই মাসে অবশ্যই রোজা রাখবে। (সুরা বাকারা ১৮৫) ইসলামের পাঁচ খুঁটির একটি হলো রোজা। রোজা কেবল উপবাসের নাম নয়। এ হলো আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের উত্তম পথ। প্রতি এগারো মাস ঘুরে রমজান এসে আমাদের তাকওয়ার সবক শেখায়। পরিশুদ্ধ করে অন্তরাত্মা। মুত্তাকী বানায় আমাদের। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা: ১৮৩) আরও পড়ুন: রোজা না রেখে মসজিদের ইফতার খাওয়া যাবে? প্রতিটি কাজের বিনিময় থাকে। থাকে লাভ ও লোকসান। দ্বীনি আমলেরও আছে প্রতিদান। প্রতিটি নেক আমলের বিনিময়ে লেখা হয় এক থেকে দশগুণ পর্যন্ত সওয়াব। তবে রমজান মাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন। এ মাসে প্রতিটি আমলের বিনিময় দেওয়া হয় বহুগুণে। কোনো কোনো আমলে ৭০ গুণ পর্যন্ত। হযরত সালমান ফারসি রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই মাসে (রমজানে) কোনো নফল আমল করল, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায় করল।’ (মিশকাত শরিফ) বিশেষ কাজের থাকে বিশেষ প্রতিদান। রোজাও অন্যান্য আমলের তুলনায় বিশেষ। কারণ, রোজা পালনে লোকদেখানোর ভাব থাকে না। তাই তো আল্লাহ তায়ালা রোজাকে অন্যান্য আমলের তুলনায় বেশি পছন্দ করেন। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকে আম্বরের চেয়েও বেশি প্রিয়।  হজরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সা. কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মানব সন্তানের যাবতীয় কাজ তার নিজের জন্য। কিন্তু রোজা হলো আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তায়ালার কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৫১) এই মাসের শেষ দশকে রয়েছে এমন একটি রাত, যে রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এটা (অর্থাৎ কোরআন) শবে কদরে নাজিল করেছি। তুমি কি জানো শবে কদর কী? শবে কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ।’ (সুরা কদর: ১-৩)