রক্তে সুগার কত হলে জীবন বাঁচাতে রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি

ডায়াবেটিস নিয়ে রোজা রাখা অনেকের কাছেই সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত। একদিকে ধর্মীয় অনুশীলন, অন্যদিকে রক্তে শর্করার নিরাপদ মাত্রা - দুটোর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, রক্তে সুগার কত নামলে বা বাড়লে রোজা ভাঙা জরুরি? ১. খুব কমে গেলে বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া রক্তে শর্করা ৩.৯ মি.মোল/লি-এর নিচে নেমে গেলে সেটি হাইপোগ্লাইসেমিয়া হিসেবে ধরা হয়। রক্তের সুগার যদি তার কম হয়, তাহলে অবিলম্বে রোজা ভাঙা প্রয়োজন। আর যদি সুগার ৩.৯ মি.মোল/লি-এর উপরে থাকে কিন্তু কমতে থাকে, সঙ্গে মাথা ঘোরা, ঘাম, কাঁপুনি, ঝিমুনি বা বিভ্রান্তি দেখা দেয় - তাহলেও অপেক্ষা করা উচিত নয়। আমেরিকান ডায়াবেটিস সোসাইটি জানায়, ৩.৯ মি.মোল/লি-এর নিচে সুগার বিপজ্জনক হতে পারে এবং সেই অবস্থায় তাৎক্ষণিক শর্করা গ্রহণ করা দরকার। ২. খুব বেশি বেড়ে গেলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া রক্তে শর্করা যদি ১৬.৭ মি.মোল/লি বা তার বেশি হয়, তাহলে রোজা চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় শরীরে পানিশূন্যতা, কিটোন জমা হওয়া এবং ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে। ইন্টারন্যাশনলি ডায়াবেটিস ফেডারেশন রমজান বিষয়ক গাইডলাইনে উল্লেখ করেছে, ১৬.৭ মি.মোল/লি-এর বেশি হলে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। লক্ষণ দেখলে সংখ্যার অপেক্ষা নয় সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু উপসর্গ আরও গুরুত্বপূর্ণ। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন - >> তীব্র দুর্বলতা >> ঘাম বা কাঁপুনি >> ঝাপসা দেখা >> বমিভাব >> অতিরিক্ত তৃষ্ণা >> দ্রুত শ্বাস এগুলো হাইপো বা হাইপারগ্লাইসেমিয়ার সংকেত হতে পারে। রোজায় মনিটরিং কি বৈধ? অনেকে ভাবেন, আঙুল ফুটিয়ে রক্ত পরীক্ষা করলে রোজা ভেঙে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অধিকাংশ ইসলামি মতামত অনুযায়ী, গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করলে রোজা নষ্ট হয় না। বরং এটি নিরাপত্তার অংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গাইডলাইন বলছে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিয়মিত মনিটরিং অপরিহার্য। ডায়াবেটিস নিয়ে রোজা রাখা মানেই কঠোরতা নয়, বরং সচেতনতা। তাই রক্তের শর্করার মাত্রা ৩.৯ মি.মোল/লি এর নিচে বা ১৬.৭ মি.মোল/লি-এর ওপরে গেলে রোজা ভেঙে ফেলা জরুরি। স্বাস্থ্য রক্ষা করাও দায়িত্বের অংশ। তাই রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নিন। সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এএমপি/এএসএম