ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩০০ বছরের প্রাচীন কালভৈরব মন্দিরে যজ্ঞ মহোৎসব শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডায় ৩০০ বছরের প্রাচীন শ্রী শ্রী কালভৈরব মন্দিরে পাঁচ দিনব্যাপী সপ্তশতী বার্ষিক মহাযজ্ঞ মহোৎসব শুরু হয়েছে।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বৈদিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৬ দিনব্যাপী মহাযজ্ঞ উৎসবের উদ্বোধন করেন মন্দির কমিটির সভাপতি পলাশ ভট্টাচার্য।এ সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ও ভারত থেকে আগত পুরোহিত পণ্ডিতগণসহ স্থানীয় ভক্তবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকরা জানান, সোমবার দুপুর থেকে জীব জগতের কল্যাণ কামনায় সপ্তশতী চণ্ডী মহাযজ্ঞ শুরু হয়। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তবৃন্দরা যজ্ঞের আহুতি হিসেবে ফল, ফুল, দূর্বা ও বেলপাতাসহ বিভিন্ন পূজার সামগ্রী যজ্ঞ স্থলে প্রদান করেন। এ সময় আয়োজকসহ ভক্তরা জীব জগতের কল্যাণ কামনা করেন।যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজক ও কালভৈরব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পশাল ভট্টাচার্য জানান, আজ থেকে তিনশো বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা দূর্গাচরণ আচার্য্য স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে শহরের মেড্ডা এলাকায় তিতাস নদীর তীরে শ্রী শ্রী কালভৈরব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে জীব জগতের কল্যাণ কামনায় প্রতিবছর এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। পরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী ডিনামাইটের মাধ্যমে ২৪ ফুট উঁচু কালভৈরব মূর্তির ক্ষতিসাধন করা হয়। এর পর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েক বছর পূজা-উৎসব বন্ধ থাকে। পরে কুমিল্লার ভক্ত সচিনন্দন সেন, স্থানীয় ভক্তদের সহযোগিতায় কালভৈরব মন্দিরটির পুণপ্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে গত ৪৮ বছর ধরে পুনপ্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।যজ্ঞ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া পুরোহিত শ্রী মধুসুধন চক্রবর্তী জানান, জীব জগতের কল্যাণ কামনায় এই চণ্ডী যজ্ঞের মাধ্যমে মহাকালকে তুষ্ট করার জন্যেই ধর্মীয়ভাবে এই প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে।আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগর পাড়ে শত বছরের ‘রাস উৎসব’ শুরুঅপর পুরোহিত শ্রী কাবিকারঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ যজ্ঞ করা হচ্ছে মা চন্দ্রিকাকে তুষ্ট করার জন্য। তিনি তুষ্ট  হলেই ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। মা সবাইকে আশীর্বাদ করবেন। সবাই যেন ভাল থাকে, এই প্রার্থনা মায়ের কাছে করছি।’এদিকে, কালভৈরব মন্দিরে আসা ভক্তদের সার্বিক সহযোগিতাসহ শুভেচ্ছা জানান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।তিনি বলেন, ‘প্রাচীনের মনের উৎসবকে কেন্দ্র করে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে উৎসব অঙ্গন। আয়োজক যারা আছে, আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি যারা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন, তাদের প্রত্যেককে স্বাগত জানাচ্ছি। উৎসব চলবে, আমরা তাদের পাশে সার্বিকভাবে আছি ‘এদিকে পাঁচদিনব্যাপী যজ্ঞ উৎসবকে কেন্দ্র করে কালভৈরব মন্দির আশেপাশে তিতাস নদীর তীরে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় নাগরদোলা খেলনা সামগ্রীসহ মাটির তৈরি হরেক রকমের সামগ্রীর পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলবে।