রোজায় সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে শরীরের উপর চাপ ফেলতে পারে। অনেকেই এসময় অসুস্থ হয়ে পরেন। বিশেষ করে যারা গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যায় ভুগছেন তারা সহজেই বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। হঠাৎ ভারী খাবার, বেশি মিষ্টি বা তেলমাখা ভাজাপোড়া খেলে বুকজ্বালা, হজমের সমস্যা এবং পেটের অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের বলেন, রোজায় সুস্থ থাকার জন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের রোগীদের জন্য এটি স্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি। ছবি: ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের নিচে তুলে ধরা হলো ৫টি সহজ কিন্তু কার্যকর নিয়ম, যা অনুসরণ করলে রোজার সময় স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সেহরি কখনো বাদ দেবেন না সেহরি খাওয়া শুধু শক্তি জোগায় না, পেটের অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ডা. যোবায়ের বলেন, সেহরি না করলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অ্যাসিড বৃদ্ধি পায়, যা বুকজ্বালা বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই হালকা, পুষ্টিকর এবং সহজপাচ্য খাবার সেহরিতে অবশ্যই রাখুন। সেহরিতে ভাত, ডাল, সবজি বা হালকা প্রোটিনযুক্ত খাবার খান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। ইফতারে হঠাৎ ভারী খাবার খাবেন না রোজা শেষে একবারে অনেক খাবার খেলে পেটের উপর চাপ পড়ে। ডা. যোবায়ের বলেন, একসাথে অতিরিক্ত খাবার খেলে বুকজ্বালা, অস্বস্তি এবং কখনো কখনো প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ইফতারে হালকা, সহজপাচ্য খাবার দিয়ে শুরু করা উচিত। এজন্য ইফতারে প্রথমে কিছু ফল বা পানি দিয়ে রোজা ভাঙুন। হালকা স্যুপ বা ডাল-ভাত খেয়ে ধীরে ধীরে প্রধান খাবার শুরু করুন। মসলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার সীমিত রাখুন ঝাল-ভাজাপোড়া খাবার পেটের জন্য ভারী এবং হজম কঠিন করে। ডা. যোবায়ের বলেন, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত ঝাল খেলে গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। চেষ্টা করুন মসলা কমানো এবং কম তেল ব্যবহার করা। তাই ইফতারে ভাজাপোড়া কম খান। মসলাদার ঝোল বা কারি হালকা রাখুন। প্রয়োজন হলে অল্প গরম পানি খেতে পারেন। আরও পড়ুন: বয়স বাড়লে রোজায় বাড়তি যত্ন কেন জরুরি? ময়দা না আটা, সুস্থতার পাল্লা কার দিকে? ইফতারে কেন ছোলা থাকা জরুরি? ওষুধের সঠিক সময় মেনে চলুন গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের জন্য প্রেসক্রাইব করা ওষুধের সময় মেনে খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ডা. যোবায়ের বলেন, সেহরির আগে বা পরে ওষুধ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কেউ যদি ওষুধ না খেতে চায়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা নিন। এক্ষেত্রে আলসার রোগীরা বিশেষ সতর্ক হোন। ব্যথা বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার রাখুন দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে পানির ঘাটতি হয়। ডা. যোবায়ের বলেন, পানি বা হালকা তরল খাবার যথেষ্ট পরিমাণে না নেওয়ার ফলে ডিহাইড্রেশন, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা এবং ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। তাই সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত তরল খাবার রাখুন। ইফতারে সুপ, জুস বা পানি পান করুন। চা ও কফি সীমিত রাখুন। অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। রোজায় এই ৫ নিয়ম মেনে চললে গ্যাস্ট্রিক, আলসার ও অন্যান্য পেটের সমস্যা কমানো সম্ভব। এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে রোজা শুধু ধর্মীয়ভাবে পূর্ণ হবে না, স্বাস্থ্যও বজায় থাকবে। জেএস/