বর্তমান সময়ে জীবন প্রযুক্তিনির্ভর ও তীব্রভাবে প্রতিযোগিতামূলক। কাজের চাপ, অনিশ্চয়তা ও চারপাশের অস্থিরতা প্রতিদিন আমাদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে। তবে সুখবর আছে! গবেষণা বলছে, দৈনন্দিন কিছু ছোট অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী ইতিবাচকভাবে বদলে দিয়ে মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। আজ (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব শান্তি ও সৌহার্দ্য দিবসে জেনে নিন অস্থির সময়ে শান্ত থাকার এমনই ৫টি কার্যকর উপায় - ১. মাইন্ডফুলনেস ও গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস হঠাৎ দুশ্চিন্তা বা চাপ অনুভব করলে চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস শরীরের ‘ভেগাস নার্ভ’ সক্রিয় করে, যা স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে। তাই মনোযোগ ধরে রাখা বা মাইন্ডফুলনেস চর্চা উদ্বেগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ২. ডিজিটাল ডিটক্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যের জীবনের ঝলমলে অংশ দেখতে দেখতে অনেকেই নিজের জীবন নিয়ে হতাশায় ভোগেন। গবেষণা বলছে, দিনে অন্তত এক ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক চাপ কমে। নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিনমুক্ত রাখার অভ্যাস মানসিক সুস্থতাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ৩. প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো প্রকৃতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর থেরাপি। বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা আকাশের নিচে বা সবুজ পরিবেশে ১০-২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেও মানসিক চাপ কমে। এই পদ্ধতিকে অনেক সময় ‘ইকো-থেরাপি’ বলা হয়। ৪. কৃতজ্ঞতা চর্চা ও ডায়েরি লেখা প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে তিনটি বিষয় লিখে রাখুন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মানসিক স্থিতি ও সুখবোধ বাড়ায়। এটি নেতিবাচক চিন্তা থেকে মনকে সরিয়ে ইতিবাচক দিকে নিতে সহায়তা করে। ৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস ঘুমের অভাব উদ্বেগ ও খিটখিটে মেজাজের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও চিনি এড়িয়ে সুষম খাবার গ্রহণ মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মনের শান্তি কোনো একদিনে অর্জন করা যায় না; এটি প্রতিদিনের চর্চা। ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। কারণ ছোট ছোট ধাপগুলোই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটি এএমপি/এএসএম