খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এক নাম নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কখনো শক্ত ঘাঁটির জয়ী প্রার্থী, কখনো দলীয় দ্বন্দ্বে কোণঠাসা নেতা, আবার কখনো নির্বাচনী পরাজয়ের পর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জনের কেন্দ্র, এমন নানা অধ্যায় পেরিয়ে আবারও আলোচনায় তিনি। সদ্য সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর যখন তার রাজনৈতিক অবস্থান আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল, ঠিক সেই সময়ই খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন তিনি।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তার করেছেন মঞ্জু। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ২৮ বছর। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ভরাডুবির মধ্যেও খুলনা-২ আসনে জয় পেয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে সংসদ নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দুই ক্ষেত্রেই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় তাকে, যেসব নির্বাচনে বিএনপি কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল।সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনেই তিনি পরাজিত হন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর কাছে। এই ফলাফল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দলীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে তার পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখেন অনেকেই। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভেতরে দোষারোপ ও বিভক্তির আলোচনা আরও তীব্র হয় এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয় নানা জল্পনা।নির্বাচনী পরাজয়ের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ, অনেকের কাছে এটি তার জন্য নতুন সুযোগ ও রাজনৈতিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দলীয় ঐক্যের আহ্বানও জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতশারীরিকভাবে অসুস্থ মঞ্জু বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এবং আমাকে ডেকে উনি নির্দেশনা দিয়েছেন, জনগণের পাশে থেকে জনগণের কাজগুলো করার জন্য। এজন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব তিনি অর্পণ করেছেন। আমি তার এই নিয়োগকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। খুলনার মানুষের জন্য কাজ করার জন্য যে নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন তা আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো।’এর আগে, ২০২১ সালে দলীয় কমিটি পুনর্গঠনের সময় মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়েন মঞ্জু। নতুন কমিটির বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং পরে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যাহতি পান। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি তিনি। বিভিন্ন ব্যানারে সক্রিয় থেকেছেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনেও প্রার্থী হন, যদিও প্রার্থিতা নিয়েও দলীয় ভেতরে মতবিরোধ দেখা দেয়।খুলনা সিটি করপোরেশেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ জানিয়েছেন, বিদায়ী ও বর্তমান প্রশাসকের আলোচনার মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন নির্ধারণ করা হবে।