রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ পাচার ও সম্পদ গড়ার অভিযোগে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন বাদী হয়ে গত ২৮ জানুয়ারি একটি মামলা করেন। এ মামলায় গোদাগাড়ী উপজেলার সহড়াগাছী গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ (৬০) এবং তার স্ত্রী মোসা. সায়েরা বেগম (৫৬) দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া জেলার উপপরিচালক মেহেদী হাসান গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা করেন। এ মামলায় আসামি করা হয় রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার মাদারপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. তারেক হোসেনকে (৩৬)। তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৮০৬ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ, জমি ক্রয় এবং ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করছিলেন। গোপন নজরদারি, আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এসব তথ্য প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এটি রাজশাহীতে তাদের প্রথম মানি লন্ডারিং মামলা হলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধ অর্থের উৎস, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো আমরা মানি লন্ডারিং মামলা করতে সক্ষম হয়েছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। শুধু এ মামলাগুলোই নয়, আরও বেশ কিছু মামলা বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে। খুব শিগগির আমরা আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করতে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসা করে বা মাদকের টাকা ব্যবহার করে কেউ পার পেয়ে যাবে—এমন ধারণা এখন আর সঠিক নয়। কেউ যদি মাদকের টাকায় সম্পদ গড়ে তোলে বা বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করে, এবং আমরা যদি তার প্রমাণ পাই, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করা হবে। এ ধরনের মামলা মাদকের বিরুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখবে। সাখাওয়াত হোসেন/আরএইচ/এএসএম