রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে বিশাল জয়ে সুপার এইট শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের

চলতি আসরের সর্বোচ্চ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়ার পর বিশাল জয়ে সুপার এইট পর্ব শুরু করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানে হারালো শাই হোপের দল। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি ক্যারিবীয়দের টানা পঞ্চম জয়। ২৫৫ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২০ রানে ৩টি আর একশর আগে (৯৪ রানে) ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের মধ্যে ডিয়ন মায়ার্স (১৫ বলে ২৮) আর সিকান্দার রাজা (২০ বলে ২৭) ছাড়া কেউ বলার মতো লড়াই করতে পারেননি। শেষদিকে বোলার ব্র্যাড ইভান্স ২১ বলে ৪৩ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন। ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গুদাকেশ মোতি ৪টি, আকিল হোসেন ৩টি আর ম্যাথিউ ফোর্ডে নেন ২টি উইকেট। এর আগে জিম্বাবুয়ের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে বোর্ডে আসরের সর্বোচ্চ ২৫৪ রান (৬ উইকেটে) জমা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে কেনিয়ার বিপক্ষে ২০০৭ সালের আসরে ৬ উইকেটে ২৬০ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। যা কিনা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। এছাড়া এই ম্যাচে ১৯ ছক্কায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে নেদারল্যান্ডসের পাশে বসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সিকান্দার রাজার ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত কাজে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। ধন্যবাদ পেতেই পারেন তিনি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে। বিশেষ করে মুসেকিওয়া ধন্যবাদ পাবেন হেটমায়ারের কাছ থেকে। ৯ ও ৭০ রানে দুবার তিনি ছেড়েছেন তার ক্যাচ। আর জীবন পেয়ে খেলেছেন ৩৪ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। পাওয়ার প্লেতে ৫৫ রান যোগ হয় উইন্ডিজের। বোর্ডে যখন ১৭ রান, তখন ব্র্যান্ডন কিং ফিরে যান ৯ রান করে। অধিনায়ক শাই হোপ ১৪ রান করে ব্র্যাড ইভান্সের শিকারের পরিণত হলে ৫৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ক্যারিবিয়রা। পরের ৯ ওভারে বোর্ডে যোগ হয় ১২৪ রান। যার মূল কারিগর হেটমায়ার ও পাওয়েল। মাত্র ১৯ বলে ফিফটি করে হেটমায়ার। তার ব্যাটে অনুপ্রাণিত হয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন রভম্যান পাওয়েলও। তিনি ফিফটি তুলে নেন ২৯ বলে। ২৫০ স্ট্রাইকরেটে হেটমায়ার ৭ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৫ রান করে সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ১২২ রানের জুটি। দলীয় ১৭৬ রানে হেটমায়ারের বিদায়ের পর বোর্ডে যখন ১৯৪ রান, তখন ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ৫৯ রানে আউট হন পাওয়েল। সমান ৪টি করে চার ও ছয় মারেন তিনি। শেষ ৫ ওভারে ক্যামিও ইনিংস আসে শেরফান রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ড। আউট হওয়ার আগে ৩ ছক্কায় শেফার্ড করেন ১০ বলে ২১। আর রাদারফোর্ড অপরাজিত ছিলেন ১৩ বলে ৩১ রান করে। ৪ বলে ১৩ রান করে আউট হন জেসন হোল্ডার। জিম্বাবুয়ের হয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি। এমএমআর/কেএইচকে