নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে?

স্পিকারের পদত্যাগ আর ডেপুটি স্পিকার কারাগারে-- এমন অবস্থায় নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। যদিও কার্যপ্রণালী বিধি থেকেই এর সমাধান খুঁজছে সরকারি দল বিএনপি। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি মনোনীত জ্যেষ্ঠ কোনো সংসদ সদস্যকে দিয়ে অধিবেশন শুরু করা যায় কি-না, সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে।জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রথম দিনের অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন আগের সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। সেই বৈঠকেই নির্বাচিত করা হয় নতুন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। স্পিকারের পদত্যাগ আর ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের সূচনায় কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অবশ্য সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৫ ধারা থেকে সমাধানের উপায় খুঁজতে চাইছে। সেই অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সিনিয়র সংসদ সদস্য দিয়ে অধিবেশন শুরু করা যায় কি-না, তা বিবেচনা করছে দলটি। আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে ১২ মার্চ সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, এখানে একটা সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রপতি কোনো একজন সিনিয়র সদস্যকে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দিতে পারেন। সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পরও যখন সংসদ বসেছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন যে ওমুকে সভাপতিত্ব করবেন। সেটা একজন সিনিয়র সদস্য। তাই এটা তো খুব সহজ ব্যাপার যে, সেখানেই স্পিকার নির্বাচিত হবেন। আর সেটা তো নির্বাচিতই থাকে। প্রধানমন্ত্রী নাম প্রস্তাব করবেন, সবাই সমর্থন করবেন। এখানে তো ভোটের বিষয় নেই, যেহেতু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।’  এবারের সংসদের আরও বেশ কিছু বিষয় আগ্রহের কেন্দ্রে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩ অধ্যাদেশেরও সুরাহা করতে হবে এ সংসদে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপিত হতে হবে অধ্যাদেশগুলো। উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশকে আইনি রূপ না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব কিভাবে বিবেচনা করবে সংসদ, তা নিয়েও কৌতুহল আছে নানা মহলে। আরও পড়ুন: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন কবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো নোট অব ডিসেন্ট ছিল। সেগুলো কিন্তু তাদের প্যাকেজে আনা হয়নি। সেগুলো আমরা কমিটমেন্ট করেছি, সেগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো।’ মনজিল মোরসেদ বলেন, পরবর্তী ৫ বছর সংসদ পরিচালনা করার জন্য প্রথম অধিবেশনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। সেগুলোই হয়ত প্রথম অধিবেশনে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে ক্ষমতায় ছিলেন, সেই কর্মকাণ্ডগুলোরও বৈধতা দেয়ার ব্যাপার থাকবে। এগুলো আগামী সংসদের প্রথম দিকেই হতে হবে।   প্রথম অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পাশাপাশি কার্যসূচি থাকছে শোক প্রস্তাব, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও সেই ভাষণের ওপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা।