ইরানে মার্কিন আক্রমণ চালালে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তবে, এ বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেন যেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এবং মার্কিন হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা রোববার প্রতিবেদনে জানায়, কেইন গত সপ্তাহে এক বৈঠকে ট্রাম্পকে বলেছিলেন যে, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্র এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনের অভাব আমেরিকার জন্য ভালো হবে না। কারণ মার্কিন আক্রমণের ক্ষেত্রে ইরান যখন সম্ভাব্য প্রতিশোধ নিতে চাইবে তখন তা নিয়ন্ত্রণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যা হতে পারে। আরও পড়ুন:হত্যার আশঙ্কা / উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে খামেনির পদক্ষেপ, জানা গেল নাম প্রতিবেদন অনুসারে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত মার্কিন অস্ত্রের মজুদ, ইসরাইল এবং ইউক্রেনের মতো মিত্রদের সমর্থনে ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। কেইন ইরানের যেকোনো অভিযানের মাত্রা, এর অন্তর্নিহিত জটিলতা এবং মার্কিন হতাহতের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদপত্রটি এই বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনার সাথে পরিচিত একজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানিয়েছে। ট্রাম্পের সাথে আলোচনায় কেইন-এর উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সোমবার সন্ধ্যায় এক নিবন্ধে তারা বলেছে, কেইনই একমাত্র সামরিক ব্যক্তিত্ব যিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে ইরান সম্পর্কে ব্রিফ করছেন। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান তদারকির দায়িত্বে নিযুক্ত মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে জানুয়ারি থেকে ট্রাম্পের সাথে কোনো বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বা কথা বলা হয়নি।দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের জন্য কেইন ভেনিজুয়েলার অভিযানে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তবে ইরানকে ঘিরে আলোচনায় তিনি আরও সতর্ক ছিলেন।এই বৈপরীত্যের কথা উল্লেখ করে, একটি সূত্র কেইনকে ইরানের ব্যাপারে ‘অনিচ্ছুক যোদ্ধা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কেইন ইরানে একটি বড় অভিযানের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করেন, যার ফলে জড়িয়ে পড়ার এবং আমেরিকানদের হতাহতের ঝুঁকিও বেশি, ধারণা তার। তবে, ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এগুলোকে ‘ভুয়া সংবাদ মাধ্যম’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং কেইনকে নিয়ে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তার বিরোধীতাও করেছেন।ট্রাম্প বলেছেন, ‘তিনি ইরানে হামলা চালাতে না করেননি। এমনকি আমি যে ভুয়া সীমিত হামলার কথা গণমাধ্যমে পড়ছি, সে সম্পর্কেও কিছু বলেননি। তিনি কেবল একটি জিনিস জানেন, কীভাবে জিততে হয় এবং যদি তাকে তা করতে বলা হয়, তবে তিনিই দলের নেতৃত্ব দেবেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধ সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে তা ভুলভাবে লেখা হয়েছে, এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে। ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের উপর আক্রমণের কথা ভাবছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল বাহিনীকে কেন্দ্রীভূত করছেন যা এই অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। আরও পড়ুন:ইরানের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্প, জাতিসংঘের বক্তব্যের পর ‘প্রমাণ’ চাইল তেহরানঅন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে আশা প্রকাশ করেছে যে বৈঠক ফলপ্রসূ হবে, কিন্তু পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সিদের সমর্থনের মতো বিষয়গুলো যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দাবি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: আল জাজিরা