গ্ল্যামার জগতে আজকাল যেন প্রতিযোগিতা, কে কত বড় সিলুয়েট, কত সাহসী রং বা কত নাটকীয় উপস্থিতি তৈরি করতে পারেন। অথচ কখনও কখনও সবচেয়ে সংযত উপস্থিতিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে স্মরণীয়। সেই নীরব অথচ গভীর ছাপ রেখেই সাম্প্রতিক এক উপস্থিতিতে আলোচনায় এলেন জাহ্নবী কাপুর। তিনি বেছে নিয়েছিলেন রাহুল মিশ্রর কুতুর সংগ্রহের একটি প্যাস্টেল সিকুইন গাউন। যা দূর থেকে দেখলে অবাক করার মতো সরল। স্ট্র্যাপলেস নকশা, শরীরঘেঁষা কলাম কাট, নিচ পর্যন্ত টানা পরিষ্কার সিলুয়েট কোনো অতিরঞ্জিত ভলিউম বা নাটকীয়তা নেই। আইভরি-আভাযুক্ত নরম বেস যেন আলোয় ভেজা এক নিখুঁত ক্যানভাস। এই গাউনের আসল আকর্ষণ ধরা পড়ে কাছাকাছি গেলে। পুরো পোশাকজুড়ে সূক্ষ্ম হাতে বসানো সিকুইন, যেন ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে নরম নকশা। ব্লাশ পিংক, মিন্ট, ল্যাভেন্ডার আর রুপালি ছোঁয়ার প্যাস্টেল মিশ্রণ আলো পেলে ঝিলমিল করে, তবে চোখে ধাক্কা দেয় না। বরং হাঁটার ছন্দে, শরীরের ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে সেই মায়াবী দীপ্তি। গাউনের সঙ্গে যুক্ত ছিল স্বচ্ছ টিউলের হালকা ড্রেপ, যা আলতো করে বাহু ছুঁয়ে পেছনে নেমে গেছে। এতে লুকটিতে যোগ হয়েছে এক মৃদু রোমান্টিক আবহ। কিন্তু সেটি কখনও গাউনের গঠন বা কারিগরিকে আড়াল করেনি। বরং পরিমিতির মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে কুতুরের আসল সৌন্দর্য। অ্যাক্সেসরিজের নির্বাচনেও ছিল মাপা সৌন্দর্য। এমেরাল্ড ও ডায়মন্ডের একটি চোকার নেকলাইনে এনে দিয়েছে গাঢ় অথচ সুশৃঙ্খল বৈপরীত্য। ফিকে আইভরির পটভূমিতে সবুজ পাথরের দীপ্তি যেন রাজকীয় স্পর্শ যোগ করেছে, তবে পুরো লুককে ভারী করেনি। সঙ্গে ছোট স্টাড নির্মেদ, মার্জিত। মেকআপ ছিল উজ্জ্বল ত্বকনির্ভর, হাইলাইটার-ঝলমলে নয়; চুল আঁটসাঁট স্লিক স্টাইলে বাঁধা। ফলে দৃষ্টি স্থির থেকেছে গাউনের সূক্ষ্ম নকশায়। এই উপস্থিতি ম্যাক্সিমালিস্ট রেড কার্পেট স্টাইলের বিপরীত মেরুতে। এখানে নেই চোখধাঁধানো চমক, আছে আত্মবিশ্বাসী সংযম। ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’ যাকে বলে যেখানে রং বা কাট নয়, কথা বলে কারিগরি, টেক্সচার আর নিখুঁত নির্মাণশৈলী; তারই এক সার্থক উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই লুক। রাহুল মিশ্রর কুতুর গাউনে জাহ্নবী কাপুর যেন মনে করিয়ে দিলেন, সব সময় উচ্চকণ্ঠে নিজেকে প্রকাশ করতে হয় না। কখনও কখনও সবচেয়ে নরম উচ্চারণই হয়ে ওঠে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। জেএস/