ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে অনাবশ্যক কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। খবরে বলা হয়েছে, বৈরুত-রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৩০ থেকে ৫০ জন মার্কিন দূতাবাসকর্মী লেবানন ছাড়েন। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা সরাসরি যুদ্ধে রূপ নিলে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, লেবাননের বৈরুতস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দূতাবাসে প্রয়োজনীয় মূল কর্মীরা অবস্থান করছেন এবং কার্যক্রম চালু রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়ন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। আরও পড়ুন>>ভারতীয় নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার পরামর্শযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো ইরানইরানে হামলায় শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা, সরকার বদলের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের এদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে জেনেভায় আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ চান, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। একই সঙ্গে, চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটি থেকে কর্মী সরিয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার আগে ইরাক, বাহরাইন ও কুয়েতের দূতাবাস থেকে অনাবশ্যক কর্মী প্রত্যাহার করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সংঘাত শুরু হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে অথবা আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীর মাধ্যমে অসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করতে পারে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মাধ্যমে হামলার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। দুটি বিমানবাহী রণতরী, ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও উন্নতমানের আকাশ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড কয়েক দিনের মধ্যে অবস্থান নেবে; এটি বর্তমানে গ্রিসের সৌদা উপসাগরের কাছে রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় নৌঘাঁটি আছে। মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটি খালি করার এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য বৃহত্তর সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খোলা রেখেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/