রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের পেট ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যায়। হঠাৎ করে ভারী, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার কারণে বুকজ্বালা, অস্বস্তি এমনকি গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঠিক খাবার, পরিমিতি, সময়মতো সেহরি ও ইফতার এবং প্রয়োজনমতো ওষুধ গ্রহণ এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে রোজায় পেটের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের। ছবি: ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের জাগো নিউজ: ইফতারে ঝাল-ভাজাপোড়া ও জিলাপি-ছোলা বিতর্ক: স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতটা? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: ইফতারে ছোলা-মুড়ি খাওয়া মোটেও ক্ষতিকর নয়, তবে জিলাপি বা অতিরিক্ত মিষ্টি একবারে বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেশি তেল বা চিনি দিয়ে তৈরি খাবার হজমে সমস্যা, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পরিমিত খাবার খাওয়া উচিত। জাগো নিউজ: রোজায় কোন খাবার খাওয়া উচিত, কোনগুলো এড়িয়ে চলা ভালো? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: সহজপাচ্য, হালকা, পুষ্টিকর খাবার যেমন ডাল, ভাত, শাক-সবজি, হালকা মাছ বা মুরগি। সেহরিতে খেতে হবে পর্যাপ্ত পানি ও লবণ-সমৃদ্ধ খাবার। অন্যদিকে এড়িয়ে চলতে হবে অতিরিক্ত মিষ্টি ও তেলমাখা ভাজাপোড়া। এছাড়া অতিরিক্ত ঝাল বা ভারী মশলাযুক্ত খাবারও ক্ষতিকর। জাগো নিউজ: রোজায় দেখা যায় অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যায়। এ সময় এই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করা উচিত? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: রোজায় অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যায়। এ সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন- হঠাৎ করে বেশি খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। অল্প অল্প করে খাবার খান। ভাজা বা কাঁচা খাবার যেমন মরিচ বা সবজি একবারে বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। জাগো নিউজ: অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় ইফতারে ভাজাপোড়া খেয়ে বুকজ্বালা বা ব্যথায় ভোগেন এটা কি সাধারণ অ্যাসিডিটি, নাকি আলসারের সতর্ক সংকেত? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: ইফতারে ভাজাপোড়া খেয়ে বুকজ্বালা বা ব্যথা সাধারণ অ্যাসিডিটি হতে পারে। তবে যদি বারবার বুকজ্বালা বা কেঁপে ওঠা লাগে, বমি বা রক্তমিশ্রিত বমি হয়, ওজন কমে যায় তাহলে এটা আলসারের সতর্ক সংকেত হতে পারে। জাগো নিউজ: রোজায় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার সঠিক সময় কখন সেহরির আগে, পরে, নাকি ইফতারের সময়? কেউ যদি ওষুধ খেতে না চায় তাদের করণীয় কী? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের জন্য প্রেসক্রাইব করা ওষুধ সাধারণত সেহরির আগে বা পরে খাওয়া হয়। কেউ যদি ওষুধ না খেতে চায়, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেন। আরও পড়ুনরোজায় শক্তি ধরে রাখতে চাই সঠিক পুষ্টিজয়েন্টের ব্যথা কি স্বাভাবিক? যা বলছেন চিকিৎসকজীবনযাত্রার ভুলেই বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি জাগো নিউজ: যাদের আলসার আছে তাদের কি রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে? রোজা রাখতে চাইলে তাদের জন্য কী পরামর্শ দিবেন? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: যদি আলসার গুরুতর হয়, রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হালকা বা নিয়ন্ত্রণে থাকা আলসারের ক্ষেত্রে অল্প খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও ওষুধের সময় মেনে চলা জরুরি। তবে অতিরিক্ত ব্যথা, বমি বা রক্তপাত দেখা দিলে রোজা ভাঙাই নিরাপদ। জাগো নিউজ: সেহরি না খেলে কি আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি বাড়ে? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: সেহরি না খেলে গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে বুকজ্বলা, হজমের সমস্যা ও অস্বস্তি তৈরি হয়। জাগো নিউজ: দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিককে অনেকেই অবহেলা করেন। কখন বুঝবো এটা সাধারণ গ্যাস্ট্রিক নয়, বরং আলসার বা জটিল সমস্যা? শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা যাবে? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থাকলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। বারবার বুকজ্বলা, বমি, ওজন কমে যাওয়া বা রক্তমিশ্রিত বমি দেখা দিলে তা আলসার বা জটিল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। জাগো নিউজ: ইফতারে একসঙ্গে অনেক খাবার খেলে অগ্ন্যাশয়ের ওপর কী প্রভাব পড়ে? এতে কি প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: ইফতারে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসের ওপর চাপ বাড়ায়। এতে প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই খাবার ছোট পরিমাণে, ধীরে ধীরে খাওয়া উচিত। জাগো নিউজ: রোজার সময় সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার রাখুন। অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। সেহরি না করা থেকে বিরত থাকুন। জাগো নিউজ: রোজায় সুস্থ থাকতে গ্যাস্ট্রিক ও আলসার রোগীদের জন্য আপনার পাঁচটি সহজ কিন্তু কার্যকর পরামর্শ কী হবে? ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: সেহরি ও ইফতারে হালকা, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খান। অল্প অল্প করে খাবার খেতে চেষ্টা করুন, হঠাৎ বেশি খাবেন না। মসলা বা ভাজাপোড়া খাবার সীমিত রাখুন। ওষুধের সময় মেনে চলুন। যেকোনো অস্বাভাবিক ব্যথা, বমি বা রক্তমিশ্রিত বমি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। জাগো নিউজ: আপনার দেওয়া তথ্য পাঠকদের অনেক উপকারে আসবে। ধন্যবাদ আপনাকে। ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের: আপনাকেও ধন্যবাদ। জেএস/এমএমএআর