পবিত্র মাহে রমজান আমাদের ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, তবে এর আবহ ছড়িয়ে আছে আমাদের বাঙালিয়ানার গভীরতম শিকড়ে। বিশেষত সেহরির ডাক, এ যেন এই জনপদের আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির মূল পাটাতন, যার ওপর দাঁড়িয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লালন করে আসছে এক অনন্য ঐতিহ্য।প্রিয় এলাকাবাসী, ঘুম থেকে উঠুন, সাহরি করুন, সেহরির আর মাত্র ১০ মিনিট সময় বাকি আছে, এই আহ্বান নিছক একটি ঘোষণা নয়, এটি আত্মার ডাক। গভীর রাতের নীরবতা ভেঙে মসজিদের গজল ভেসে আসে, মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হয় আকাশে, কোথাও সাইরেনের তীক্ষ্ণ ধ্বনি, সব মিলিয়ে এক অপার্থিব সুর সৃষ্টি হয়। সে সুর কানে নয়, হৃদয়ে বাজে, আমাদের মুসলমানিত্বকে জাগিয়ে তোলে। কী যে মায়া এই দৃশ্যে! বাঙালিয়ানার ভেতর মিশে থাকা এই মুসলমানিত্ব বড়ো আপন লাগে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এই চর্চা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার ভারে কখনো কখনো দেশ ছাড়তে মন চায়। কিন্তু ঠিক তখনই এই মাটির ধর্মপ্রাণ সৌন্দর্য, মানুষের সরল বিশ্বাস, রমাদানের আধ্যাত্মিক আবহ আমাকে আটকে রাখে। মনে হয়, মহান আল্লাহ তাঁর বিশেষ ভালোবাসায় আমাকে এই সুজলা-সুফলা, ইমানদার বাংলাদেশে জন্ম দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ছয়টি সিয়াম অতিবাহিত হয়েছে, সামনে কড়া নাড়ছে মাগফিরাতের দশক। এ সময় আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তওবার মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে গড়ার। একটাই বার্তা, সংযমী হোন। শুভ রমাদান।