রোজা রেখে আলট্রাসনোগ্রাম করা যাবে?

রমজান মাসে প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর রমজানের রোজা ফরজ (অবশ্য পালনীয়)। এ মাসের একটি রোজা অবশিষ্ট পূর্ণ বছর রোজা রাখার চেয়েও অনেক বেশি সওয়াবের কাজ। বিনা কারণে রোজা না রাখা কোনো মুসলমানের জন্য জায়েজ নয়।একজন জানতে চেয়েছেন, রোজা রেখে আলট্রাসনোগ্রাম করা যাবে? এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভাঙবে না; কারণ আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ঔষধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়- সবই চামড়ার উপরে থাকে। (হেদায়া) আরও পড়ুন: রোজা ফরজ হওয়ার ইতিহাসআরেকজন জানতে চেয়েছেন, রোজা রেখে ইনহেলার ব্যবহার, ইসলাম কী বলে? এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। শ্বাসকষ্ট দূর করার জন্য ওষুধটি মুখের ভেতরে স্প্রে করা হয়। এতে যে জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ হয় সেই জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলে আর কষ্ট থাকে না। উল্লেখ্য, ওষুধটি যদিও স্প্রে করার সময় গ্যাসের মতো দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা দেহবিশিষ্ট তরল ওষুধ।  অতএব মুখের অভ্যন্তরে স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, মুখে স্প্রে করার পর না গিলে যদি থুতু দিয়ে ফেলে দেয়া হয়, তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। এভাবে কাজ চললে বিষয়টি অতি সহজ হয়ে যাবে। এতে শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি রোজা ভঙ্গ হবে না। (ইবনে আবিদিন২/৩৯৫) চিকিৎসকরা বলেন, সেহিরতে এক ডোজ ইনহেলার নেয়ার পর সাধারণত ইফতার পর্যন্ত আর ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তাই এভাবে ইনহেলার ব্যবহার করে রোজা রাখা চাই। হ্যাঁ, কারো যদি বক্ষব্যাধি এমন মারাত্মক আকার ধারণ করে যে ইনহেলার নেয়া ছাড়া ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা দায় হয়ে পড়ে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ রয়েছে যে তারা প্রয়োজনভেদে ইনহেলার ব্যবহার করবে ও পরবর্তী সময় রোজা কাজা করে নেবে। আর কাজা করা সম্ভব না হলে ফিদিয়া আদায় করবে।  আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে?আর যদি ইনহেলারের বিকল্প কোনো ইনজেকশন থাকে, তাহলে তখন ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করবে। কেননা রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙবে না। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ৩২৪; সুরা বাকারা : ১৮৪, রদ্দুল মুখতার : ২/৩৯)