রমজানে মুমিনের সময় ব্যবস্থাপনা ও ইবাদত যেমন হওয়া চাই

বরকতময় রমজান মাস আমাদের সামনে আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে। এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অনেক সময় আমাদের এই মূল্যবান সময়গুলো হেলায় কেটে যায়। ইসলাম আমাদের সময়ের সঠিক ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছে।রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ দুটি নিয়ামতের বিষয়ে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: সুস্থতা এবং অবসর সময়। (সহিহ বুখারি) রমজান মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই এই মাসে সময় ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দুনিয়াবি কাজের চাপ কমিয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করা। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য আমরা নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারি, ১. দৈনন্দিন রুটিন বা তালিকা তৈরি: প্রতিদিন সেহরি থেকে ইফতার এবং ইফতার থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত সময়ের একটি ছক তৈরি করা প্রয়োজন। কখন তিলাওয়াত, কখন জিকির এবং কখন বিশ্রাম, তা নির্দিষ্ট থাকলে সময়ের অপচয় হয় না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সময়ের গুরুত্ব দিয়ে কসম খেয়েছেন সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। (সুরা আসর: ১-২)। ২. সেহরি ও ইফতারের সময়ের গুরুত্ব: সেহরির আগের সময়টি দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় কেবল খাবার খেয়ে কাটিয়ে না দিয়ে অন্তত কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ ও তওবা-ইস্তেগফার করা উচিত। একইভাবে ইফতারের আগের মুহূর্তগুলো মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সময়ে দোয়া করার তাগিদ দিয়েছেন। ৩. তিলাওয়াত ও জিকির: রমজান হলো কুরআনের মাস। তাই প্রতিদিন অন্তত এক পারা বা নির্দিষ্ট পরিমাণ তিলাওয়াত করা উচিত। কাজের ফাঁকে বা যাতায়াতের সময় জিকির ও তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে সময়কে জীবন্ত রাখা যায়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে? ৪. অনর্থক কাজ ও সোশ্যাল মিডিয়া বর্জন: বর্তমানে আমাদের সময়ের বড় একটি অংশ কেড়ে নেয় স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া। রমজান মাসে অনর্থক চ্যাটিং, গিবত বা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সিয়াম কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পাপ থেকে রক্ষা করার নাম। ৫. শেষ দশকের প্রস্তুতি: রমজান মাসের শেষ দশকে রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত 'লাইলাতুল কদর'। মধ্য রমজান থেকেই আমাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে যেন শেষ দশকে আমরা সর্বোচ্চ ইবাদত করতে পারি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে নামতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে তুলতেন। সময় এমন মূল্যবান এক সম্পদ যা একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। রমজান মাসের বরকত ও রহমত লাভের জন্য সময়ের সঠিক বণ্টন অপরিহার্য। আমরা যদি দুনিয়াবি ব্যস্ততা একটু কমিয়ে আখিরাতের পুঁজি জমানোর চেষ্টা করি, তবেই আমাদের সিয়াম সাধনা সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই পবিত্র মাসে সময়ের সঠিক মর্যাদা দেওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।