ম্যারাডোনার মাদকাসক্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানালেন সাবেক ক্লাব সভাপতি

দিয়েগো ম্যারাডোনার হৃদয়ের অনেকটা জুড়ে ছিল স্বদেশি ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। দুই দফায় ক্লাবটিতে ৭ বছর কাটিয়েছেন তিনি। এই ক্লাবেই তার উত্থান, এরপর ইউরোপে রাজত্বের সুচনা। মাদক ও বিতর্কে জেরবার ম্যারাডোনা বোকাতেই তার বর্ণালী ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।১৯৯৫ সালে নিউওয়েল'স ওল্ড বয়েজ থেকে বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেন ম্যারাডোনা। তবে দ্বিতীয় দফায় ক্লাবে তার সময়টা খুব একটা সুখকর ছিল না। মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই, ফিটনেস সমস্যাসসহ নানা বিতর্কে ফুটবল থেকে মনযোগ অনেকটাই সরে গিয়েছিল তার। সম্প্রতি লা ফাব্রিকা দেল পডকাস্টে এক সাক্ষাৎকারে ম্যরাডোনাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন মাউরিসিও ম্যাক্রি। আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর যখন বোকায় দ্বিতীয় দফায় যোগ দেন তখন ম্যাক্রি ছিলেন ক্লাবটির সভাপতি।এই সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রি বলেন, ‘ওর (ম্যারাডোনা) সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুবই ট্রমাটিক ছিল।’বোকার সাবেক প্রেসিডেন্ট স্মরণ করেন, ১৯৯৬ সালে বোকার হয়ে ম্যারাডোনা টানা পাঁচটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তার আসক্তির সমস্যা এতটাই চরমে ছিল যে সে আর পেনাল্টি নিতে পারছিল না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সে কোচ হতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাকে না বলেছিলাম, কারণ সে সেই দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না।’ আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতুক বা না জিতুক, রোনালদো ইতিহাসের সেরা: পর্তুগালের কোচপরিস্থিতি তিনি কীভাবে সামলেছেন—এ নিয়ে ম্যাক্রি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি কখনও রাগ করিনি, কারণ তাকে দেবতার মতো দেখা হতো। এত উৎসাহ পেলে তার এমন আচরণ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। একবার সে আমাকে বলেছিল, সে ‘"ঈশ্বর আর মানুষের মাঝামাঝি কোথাও।"’তিনি আরও বলেন, ‘যেটা সুবিধাজনক, সেটা নয়—যেটা সঠিক, সেটাই করতে হয়। আমি নিয়ম মানা নিশ্চিত করছিলাম, আর সেখান থেকেই সংঘাত তৈরি হয়।’ পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, ‘সে-ও আমার আইডল ছিল; আমি তাকে ভালোবাসতাম। তার মুখে গম্ভীর ভাব থাকলেও ভেতরে ভেতরে আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে আর আরও অনেক ছবি তুলতে চাইতাম।’১৯৯৮ সালে হেক্টর ভেইরা ক্লাব ছাড়ার পর ম্যারাডোনার বোকার কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রসঙ্গে ম্যাক্রি বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখতাম সে দলের ম্যানেজার হবে, কিন্তু আগে তাকে নিজের ছোট্ট সমস্যাটা সামাল দিতে হতো এবং সমাধান করতে হতো।’তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘সে পরের দিন সকালে কোথায় থাকবে, সেটারই নিশ্চয়তা দিতে পারত না’—এই কারণেই তাকে ‘বাম্বিনো’-র (ভেইরা) বিকল্প হিসেবে ভাবা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ছয় মাস আগেও সে দলে ছিল; একটা অনুশীলনে আসত, কিন্তু চারটা মিস করত।’পরবর্তীতে কার্লোস বিয়াঞ্চির আগমন এবং ইতিহাস গড়ার প্রসঙ্গে ম্যাক্রি শক্ত বক্তব্য দেন, ‘সেই সময় যদি ম্যারাডোনা বোকার কোচ হতো, তাহলে দুইটি বিশ্ব শিরোপা, লিবার্তাদোরেস কাপ এবং মোট ১৭টি শিরোপা জেতা সম্ভব হতো না। এসব অর্জন আসে নিয়মের মাধ্যমে।’ আরও পড়ুন: বর্ণবাদ নিয়ে উত্তেজনার মাঝে ক্লাবের তারকার আপত্তিকর পোস্টের জন্য ক্ষমা চাইল রিয়ালরোমান (হুয়ান রোমান রিকেলমে)-কে নিয়ে তিনি বলেন, ‘সে ভাবে সে ক্লাবের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর তখনই সবকিছু ভেঙে পড়ে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ফুটবল শেখায়—একলা কেউ কিছু জিততে পারে না। দরকার ১১ জন খেলোয়াড়, একজন কোচ, একটি ম্যানেজমেন্ট টিম এবং সবার একই লক্ষ্য—প্রতিষ্ঠান সবার আগে।’শেষে ম্যাক্রি সতর্ক করে বলেন, ‘যে নিজেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, সে-ই সবকিছু ধ্বংস করে। জানা আছে, সে ব্যানার নামাতে হুলিগানদের বলে। আমি ১৭টি শিরোপা জেতার পরও এমনটা করিনি। যা কিছু করো, বোকার জন্য করো—সবাই তোমার সামনে মাথা নত করবে, সেই জন্য নয়।’