যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে তা নির্ধারণে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক হবে। যেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকবেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে এখতিয়ার বলে বাংলাদেশের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক চুক্তি করেছেন, সেটা ওই দেশের কোর্ট বাতিল করেছেন। পরবর্তীতে তারা দুদফা শুল্ক আরোপের কথা বলছে। যদিও সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। যে কারণে আমরা চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। অপেক্ষা করছি। তবে এখন পর্যন্ত যে বিষয়গুলো আমাদের সামনে এসেছে, সেটা মূল্যায়ন করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আগামীকাল একটি বৈঠক ডেকেছি।’ সচিব জানান, পাল্টা শুল্ক নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটি তাদের দেশের আইন অনুযায়ী হচ্ছে। আগে তা ছিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আর্টিকেল ২১ অনুযায়ী। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বলছে, এর বলে প্রেসিডেন্ট এসব চুক্তি করতে পারেন না। যা হোক সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ ও ৩০১ ধারায় কী কী শুল্ক আদায় করতে পারবে, সেটি দেখবে। কিন্তু এরই মধ্যে তারা প্রচুর শুল্ক আদায় করে ফেলেছে। সেগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে সেটি জানা দরকার।’ ‘এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি। এদিকে, মঙ্গলবার থেকে ট্রাম্পের নতুন বৈশ্বিক শুল্ক ১০ শতাংশ হারে কার্যকর হয়েছে। যদিও গত সপ্তাহের আদালতের রায় প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন, কিন্তু পরে তিনি তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হুমকি দেন। তবে সেই বাড়তি শুল্ক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেননি তিনি। ফলে শেষমেশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে ১০ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, গত সোমবার দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোর ওপর আরও উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনএইচ/একিউএফ