আল্লাহর এক অপরূপ সৃষ্টির নাম ভাষা

মানুষের সৃষ্টি লগ্নেই ঘটেছিল এক অদ্ভুত ঘটনা। মানুষ সৃষ্টিতে আপত্তি যখন নুরানিয়্যাতের, রহস্য উন্মোচন করলেন ভাষার স্রষ্টা। আদম আ. কে শেখালেন শব্দ সমাহার। অনুগত ফেরেশতাদের শুনালেন শব্দের দীর্ঘ ফিরিস্তি। নতজানু হয়ে স্বীকৃতি দিলেন মাটির শ্রেষ্ঠত্ব।বহুকাল পরে পৃথিবীতে আসলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উচ্চারণ করলেন;আমি আরবে অধিক বিশুদ্ধ-ভাষী। বুঝতে আর বাকী রইলো না শব্দ কিংবা মাতৃভাষার গুরুত্ব। অতপর সেই নবীর মাধ্যমেই জানান দিলেন, (علمه البيان) এভাবেই ভাষার কারিশমায় রচিত হলো সুরভিত ইতিহাস। আজকের পৃথিবী উপভোগ্য হয়েছে ভাষা অবলম্বন করেই। জন্মলগ্ন থেকেই একটু আধটু করে মায়ের থেকে শেখা ভাষাকেই নিজস্ব ভাষা বলে অভিহিত করা হয়।  এই ভাষা দান করে তিনি শিখিয়েছেন কিভাবে প্রার্থনার ভাষায় তনু -মন সিক্ত করতে হয়। তাই তো শিশুর বেসুরো ক্রন্দন আর ভাঙ্গা ভাঙ্গা মা ডাক ও মায়েদের প্রেম নদীতে নিমগ্ন করে। আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে? দুনিয়ার সকল কাজ থেকে বিমুখ করে সন্তানে মনযোগী করে। ভাষাই সকল দম্পতিদের অনুরাগে অনুরক্ত করে তোলে। লেখকের কলমের শানিত বিচ্ছূরণে মহক ছড়ায়। কবিরা কাব্যের রসদ খুঁজে পায়। মানুষ এ ভাষার কল্যাণেই ব্যক্ত করে খিদে-তেষ্টার শব্দ, ইচ্ছে প্রকাশের বর্ণমালা, রক্ত ছিটিয়ে চায় রক্তিম চাওয়া ‘বাংলা আমার ভাষা’এখনো প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মাতৃভাষাই অগ্রগণ্য। তাই তো খুনিদের বন্দুক-নলে সিনা উঁচু করে মুগ্ধ, সাইদেরা আজও  উচ্চারণ করে ইনসাফের আওয়াজ- বেইনসাফের নগরীতে। গেয়ে যায় বিজয়ের গান, লিখে যায় বীরত্ব গাঁথা বিপ্লবী ইতিহাস। ভাষা ছিল বলেই দেয়ালে দেয়ালে অগ্নিশব্দে দগ্ধ করেছিল দেয়ালিকারা। মিছিলের ব্যারিকেড ফেড়েঁ অপ্রতিরোধ্য হয়েছিল ছন্দেরা। তাই তো ভাষার আগুন কেবল ব্যক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জ্বালিয়েছে  জালিমের মসনদ , অত্যাচারী দোসরদের। এ ভাষার মাসে তাই আজ লিখছি  বাংলা আমার ভাষা।