তারাবির শাব্দিক অর্থ বিশ্রাম নেয়া বা প্রশান্তি লাভ করা। পারিভাষিক অর্থে তারাবি বলা হয় ‘রমাজান মাসে এশার নামাজের পর বিতরের পূর্বে আদায়কৃত সুন্নত নামাজ তারাবি নামে পরিচিত।’ তবে চার রাকাত আদায়ের পর বিরতির মাধ্যমে যে বিশ্রাম নেওয়া হয় তাকেও ‘তারাবি’ বলে। শরিয়তে তারাবির নামাজের রয়েছে অনেক ফজিলত।আদায় না করলেও রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।রমজানের রোজা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। যা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। আর তারাবির নামাজ আল্লাহর রসুল সা. প্রবর্তন করেছেন। তিনি সাহাবায়ে কেরাম রা.-কে আদায়ে উৎসাহিত করেছেন। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. বলেন, রসুল সা. বলেছেন,‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের রোজা রাখা তোমাদের জন্য ফরজ করেছেন। আর আমি তোমাদের জন্য রমজান মাসব্যাপী আল্লাহর এবাদতে দাঁড়ানো সুন্নাতরূপে চালু করেছি। কাজেই যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান ও সওয়াবের আশা নিয়ে এ মাসের রোজা রাখবে ও নফল (তারাবির) নামাজ পড়বে, সে তার জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে।’ (নাসাঈ, হাদিস: ২২১২)। তারাবির নামাজ শেষে দোয়া اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন। মনে রাখতে হবে, এ মোনাজাত সরাসরি পবিত্র কোরআন সুন্নাহতে বর্ণিত হয়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাইলে এই মোনাজাত করতে পারবে না। আমরা যেভাবে বাংলায় দোয়া করি তেমনি কেউ এটি আরবিতে পড়ছেন। যদি কেউ এ মোনাজাত করা আবশ্যক মনে করেন বা কেউ পড়তে না চাইলে তাকে তিরস্কার করেন; তাহলে এটা ভুল। আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে?তারাবির এই সময়টা বিশ্রামের। এখন বিশ্রামের সময় কীভাবে কাটাবেন এটা প্রত্যেক মুসল্লির এখতিয়ার! এ ব্যাপারে আল্লামা শামী (রহ.) তার বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব, ‘ফতোয়ায়ে শামী’তে উল্লেখ করেছেন, তারাবির প্রতি চার রাকাতের পর তার সমপরিমাণ সময় বিরতি দেয়া মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে মুস্তাহাব হলো তারাবির এবং বিতরের মাঝে বিরতি দেয়া। এই বিরতিতে তাসবিহ, কোরআন তেলাওয়াত, নীরব থাকা বা একাকী নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তি সম্পূর্ণ স্বাধীন। (রদ্দুল মুহতার : ২/৬০০)।