জাতীয় দলে সুযোগ পেলেই বেতন দেবে সরকার

নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়া বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সৌখিনতা থেকে বের করে ক্রীড়াবিদদের পেশাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক দায়িত্বের দ্বিতীয় দিনই জোর দিয়ে বলেছিলেন দেশ বিদ্যমান খেলাগুলোর জাতীয় দলে যারা থাকবেন তাদের বেতনের আওতায় আনা হবে। গতকাল সোমবার ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে করা সভায়ও সাধারণ সম্পাদকদের সে কথাগুলো জানিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবার তিনি নির্দিষ্ট কোনো ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠক করলেন। বাফুফে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আলোচনায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিমন্ত্রী বাফুফেকে বলেছেন, নারী জাতীয় দলকে বেতন দেওয়া হবে। আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের পাশাপাশি হামজা-তপুরাও পাবেন বেতন। দেশে ফেডারেশন এখন ৫২ টি। সব খেলাতেই থাকে জাতীয় দল। দলীয় ডিসিপ্লিনগুলোয় জাতীয় দলের সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত থাকলেও সাঁতার-অ্যাথলেটিকসের মতো ব্যক্তিগত খেলার জাতীয় দলের সদস্য সংখ্য নির্ভর করে ফেডারেশন কয়কজন নিয়ে একটা দল তৈরি করবেন তারও ওপর। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে বিশাল বাজেট জড়িত। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সবাইকে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ কাজটি করবেন। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের পেশাদার হিসেবে তৈরি সম্ভব নয়। বাফুফের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, ‘আগামীর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের ফুটবলে নতুন করে একটি জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তা নিয়ে আলোচনা করেছি। হামজা চৌধুরী থেকে শুরু করে বেশ কিছু খেলোয়াড় তারা বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছেন। যার কারণে আমাদের ফুটবল আগের চেয়ে অনেক দিক দিয়েই সমৃদ্ধশালী একটি জায়গায় যাচ্ছে। এই জাগরণকে ধরে রেখে কীভাবে সামনের দিকে যেতে পারি সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছেন। আমাদের মেয়ে ফুটবলাররা ভালো পারফর্ম করছেন। মেয়ে ফুটবলারদের উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি পুরুষ ফুটবলারদেরকেও উৎসাহিত করতে হবে। আমরা খেলাধুলাকে যেহেতু পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং আমরা চাই যে ফুটবলে যারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সেই পুরুষ ও নারী সবাইকেই আমরা বেতন কাঠামোর মধ্যে আনবো। আমরা তাদেরকে বেতন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করব।’ ফুটবলের মাঠের সংকট রয়েছে। এ নিয়েও আলোচনা করেছেন আমিনুল হক। ‘ফিফার অনুদানে আমাদের ফুটবল ফেডারেশন কিছু মাঠ বরাদ্দ চেয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা সাপেক্ষে তিনটি মাঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা ফুটবল ফেডারেশনের কাছে চুক্তির মাধ্যমে আমরা হস্তান্তর করবো। সেই মাঠগুলো হচ্ছে আমাদের কমলাপুর স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম। এই তিনটি মাঠকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির মাধ্যমে আমরা ফুটবল ফেডারেশনকে বরাদ্দ দেবো। সেটার সার্বিক অর্থায়ন করবে এবং এটার গ্যালারি থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনা কিভাবে আরও উন্নয়নশীল করা যায়, কিভাবে ভালো পরিবেশ তৈরি করা যায়, সেটি ফিফার থেকে একটি অনুদানের মাধ্যমে সেটি করা হবে।’ আরআই/আইএন