প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থী উদ্ধার, যা জানালেন বাবা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে আফফান সাঈদ ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর চামেলীবাগে সাত তলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অপহৃত স্কুলছাত্র আফফান সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম আহমেদের ছেলে। পরিচিত অনেকের কাছে ছেলেকে উদ্ধারের সহায়তা চান শামীম আহমেদ। ফোন করেন পরিচিত অনেকের কাছে। তবে অফিস থেকে বের হতেই দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বের হচ্ছেন। প্রটোকল ভেঙেই তার কাছে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আটকে দেয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন শামীম। এমন দৃশ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। নিরপত্তাকর্মীদের দিয়ে শামীম আহমেদকে কাছে ডেকে নেন তিনি। ছেলে অপহৃত হওয়ার বিষয়টি জানামাত্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান প্রধানমন্ত্রী। নড়েচড়ে বসে ডিএমপি। এক ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত ছাত্র আফফান সাঈদকে ঢাকার চামেলীবাগের একটি সাততলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদের নেতৃত্বাধীন টিম। এ বিষয়ে সময় সংবাদকে শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমার ছেলে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ভিআইপি রোডের পল্টন ও রাজারবাড়ি এলাকা দিয়ে আসছিল। পপুলারের তিন নম্বর বিল্ডিংয়ের কাছে পৌঁছালে দুইজন ছেলে ওর গতিরোধ করে দাঁড়াতে বলে। ওরা জিজ্ঞেস করে, ‘কোথায় যাচ্ছ?' ও জানায় যে বাসায় (খিলগাঁও) যাচ্ছে। তখন তারা ওকে সাইকেল থেকে নামিয়ে বলে, ‘আমাদের সাথে আসো, তোমার সাথে খারাপ লোক আছে।’ তিনি বলেন, ছেলেটি একা এবং রোজা আছে জানালেও তারা শোনেনি। পরে ওকে পপুলারের তিন নম্বর ভবনের পেছনের একটি দশ তলা পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে ওকে সাইকেলে তালা দিতে বলে উপরে নিয়ে যাওয়া হয়। আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ফোনে অপহরণের ২ ঘণ্টায় উদ্ধার স্কুলছাত্র অপহরণকারীরা সেখানে নিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করেছে জানিয়ে শামীম আহমেদ বলেন, ছেলেক সাত তলায় নিয়ে একটি রুমে বসিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গালিগালাজ করে ওর কাছে থাকা ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ওর মা-বাবার নম্বর চায়। ওর মাকে ফোন দিয়ে তারা বলে, ‘আপনার ছেলে খারাপ লোকের সাথে মিশেছে, আমরা ওকে ধরে রেখেছি। টাকা পাঠান, তাহলে ছেড়ে দেব, না হলে পুলিশে দেব।’ আমার স্ত্রী তখন সচিবালয়ে আমাকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, আমি পিআইডিতে (তথ্য অধিদফতর) ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি করি। খবর শুনে আমি অস্থির হয়ে যাই। আমার অফিসের বড় স্যারদের জানাই। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর আমাদের অফিসের কাছেই। আমি সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল অফিসারদের অনুরোধ করি যেন আমাকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে দেয়া হয়। আমি বলি, 'আমার ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে, মারধর করা হচ্ছে, আমি কোনো ঠিকানা পাচ্ছি না। দয়া করে আমাকে যেতে দিন। অনেক অনুরোধের পর এবং আমার পরিচয়পত্র দেখানোর পর আমাকে সুযোগ দেয়া হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর সামনে গিয়ে সালাম দিয়ে বিস্তারিত বলি যে আমার ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং টাকা দাবি করা হচ্ছে। শামীম আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার কথা শুরে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে বলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার ডিসি মাসুদকে ফোন করে নির্দেশ দেন, ‘শামীম হাসানের ছেলেকে কিডন্যাপ করে আটকে রাখা হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নাও। এরপর পুলিশি তৎপরতা শুরু হলে অপহরণকারীরা ভয় পেয়ে যায়। তারা আমার ছেলেকে মারধর করে, মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে এবং ভিডিও করার ভয় দেখায়। একপর্যায়ে পুলিশ আসছে বুঝতে পেরে তারা ছেলেকে ভবনের নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা ওকে উদ্ধার করে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা করবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে ডিসি স্যার, ওসিসহ পুলিশ ও সাংবাদিকরা এসেছিলেন। তবে আমরা কোনো মামলা দায়ের করিনি। আমার সন্তানকে আল্লাহ আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন, এটাই বড় কথা। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে সাহায্য পেয়েছি, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।