গরমে ঠান্ডা ও শীতে উষ্ণতা অনুভূতি ভাংনী মসজিদে

মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে রংপুরের ভাংনী মসজিদ অন্যতম। স্থানীয়দের মতে, নান্দনিক কারুকার্যে ভরপুর এ মসজিদটির রয়েছে প্রায় ৪০০ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস। ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৮টি গম্বুজসহ নানা রকম নকশায় পরিপূর্ণ মসজিদটি রংপুর শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নে অবস্থিত।আনুমানিক ১৬০০ সালের দিকে মুঘল আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে সময়ে বিবি মনিরুন নেছা চৌধুরানী তার বংশধরদের কাছ থেকে মসজিদটি দেখভালের দায়িত্ব পান। পরে তার কোনো সন্তান না থাকায় তিনি এই মসজিদের নামে তার সব সম্পত্তি দান করে যান। বর্তমানে এই সম্পত্তি 'ভাংনী ওয়াকফ এস্টেট' নামে পরিচিত। ভাংনী মসজিদের পেশ ইমাম আজমল সাহেব। দীর্ঘ ২০ বছর ধরেই তিনি এখানে ইমামতি করছেন। তিনি বলেন,  দানশীল নারী মনিরুন নেছা চৌধুরানীর কোনো সন্তান ছিল না। তিনি এই মসজিদের নামে প্রায় ১০০ বিঘারও বেশি জমি দান করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এই মসজিদে। তিনি বলেন, ‘মসজিদটির ভেতরে নামাজ পড়লে অন্যরকম এক প্রশান্তি পাওয়া যায়। গরমের সময় মসজিদের ভেতর ঠান্ডা থাকে এবং শীতকালে ভেতরটা বেশ গরম অনুভূত হয়।’ আরও পড়ুন: দৃষ্টিনন্দন এ মডেল মসজিদে একসঙ্গে নামাজ পড়েন ৩ হাজার মুসল্লি! অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল মিয়া জানান, বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, 'মসজিদে একসময় পুরোনো মুঘলীয় ডিজাইনের আদলে একটি ছাদ ছিল। একটি পিলারে ফাটল ধরায় সেটিকে অপরিকল্পিতভাবে ভেঙে আধুনিক টিনশেড দেয়া হয়েছে। এতে করে মসজিদের মূল ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে।' অপরিকল্পিতভাবে এসব সংস্কারের ফলে মসজিদটির অনেক প্রাচীন নকশা আজ বিলীনের পথে। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতায় এনে মসজিদটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংস্কার করা গেলে এটি আবার তার পুরানো জৌলুস ফিরে পাবে।