টাঙ্গাইলে ভুল চিকিৎসায় ১৮ হাজার মুরগির মৃত্যু, দিশেহারা খামারি

টাঙ্গাইলে ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগের পর ১৮ হাজার মুরগি মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন এক খামারি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরও তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে।ঘটনাটি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা বিলপাড়া এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আলমগীর হোসেন জানান, রেনেটা ফার্মা লিমিটেডের ওষুধ খাওয়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুরগি মারা যেতে শুরু করে। টানা তিন দিনে প্রায় ১৮ হাজার মুরগি মারা গেছে। প্রায় দুই মাস আগে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মাংস উৎপাদনের জন্য ৫৫ হাজার মুরগির বাচ্চা তোলেন আলমগীর। ১৪ ফেব্রুয়ারি মুরগি বড় করার পরামর্শ নিতে গেলে ভেটেরিনারি চিকিৎসক তাকে কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক দেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে ১৮ হাজার মুরগির একটি শেডে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এরপর রাত ৪টার মধ্যে একে একে ১২ হাজার মুরগি মারা যায়। পরে আরও ৬ হাজার মুরগি মারা গেছে। খামারির অভিযোগ, মুরগি মারা যাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে তিনি বাসাইল থানায় অভিযোগ করেন। কোম্পানির ব্যবসার স্বার্থে তিনি ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে সংশ্লিষ্টদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। আরও পড়ুন: রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে কম দামে দুধ-ডিম ও মাংস দেবে সরকার খামারের কর্মচারীরা জানান, রেনেটা কোম্পানির ওষুধ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুরগি মারা যেতে থাকে। মৃত মুরগি মাটিচাপা দিতে দিতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঈদের আগে বেতন পাওয়া নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। অপসোনিন ফার্মার ডাক্তার মেহেদী হাসান বলেন, সিনিয়র ডাক্তারের পরামর্শে প্রেসক্রিপশন করা হয়েছে। ভুল হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যায় না। অন্যদিকে রেনেটা ফার্মার ডাক্তার প্রেসক্রিপশনের দায় না নিলেও দাবি করেছেন, রোগ বুঝেই ওষুধ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় খামারি আলমগীর হোসেন বাসাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।