প্রবাসে কর্মরত নেপালি শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির বড় ভরসা এবং নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেন—কিন্তু নিজেরা ভোট দিতে পারেন না। হিমালয় ঘেরা দেশ নেপাল আগামী ৫ মার্চ সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেবে। গত সেপ্টেম্বরে যুব নেতৃত্বাধীন সহিংস বিক্ষোভে সরকার পতনের পর এটিই প্রথম নির্বাচন। দুর্বল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে ক্ষোভ থেকেই ওই আন্দোলন গড়ে ওঠে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে কাজের সুযোগ না পেয়ে প্রায় ২৫ লাখ নেপালি—মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৫ শতাংশ—বিদেশে কাজ করেন পরিবারের ভরণপোষণের জন্য। নেপালের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান গণেশ গুরুং বলেন, তারা (প্রবাসী নেপালি) পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হওয়ায় ভোটের সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব অনেক বেশি। তিনি যোগ করেন, প্রবাসী শ্রমিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও খুব সক্রিয়। গত বছরের আন্দোলনের পর অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর এক জরিপে দেখা যায়, বিদেশে থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক ভোট দেওয়ার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশ, সৌদি আরব, ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো প্রবাসী আয় দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সমান। কাতারে কর্মরত ৪৩ বছর বয়সী হোটেলকর্মী প্রদীপ বাগালে বলেন, ১৮ বছর হওয়ার সময় আমি বিদেশে ছিলাম, তাই কখনো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, জেন জেড আন্দোলনের পর ভেবেছিলাম সরকার হয়তো আমাদের ভোটের সুযোগ দেবে কিন্তু কিছুই করা হয়নি। সূত্র: এএফপি এমএসএম