প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। নতুন সরকারের কাঁধে হাজার কোটি টাকার বোঝা - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে; যার সব এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ব্যাপারে আপত্তি রেখে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তারাও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে রাজধানীতে গতানুগতিক একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি করে রেখে গেছে। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি কর্মক্ষম করে তুলতে হলে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা নতুন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে আরেকটি বোঝা চাপিয়ে দেয়ার মতোই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অনেকটাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে হচ্ছে। রাজধানীর সাত কলেজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে তাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ই তাদের মান নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি শত চেষ্টা করেও র্যাংকিংয়ে খুব একটা এগোতে পারছে না। দেশে আট বছরে নতুন ১২ মাদক - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর এটি। দেশে বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন মাদক নিয়ে এসেছে চোরাকারবারিরা। সবচেয়ে বেশি নতুন মাদক এসেছে গত আট বছরে। এই সময়ে দেশে ১২ ধরনের নতুন মাদক প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া নতুন আঙ্গিকে হেরোইন ও কোকেনের চালানও এসেছে। মাদকের বিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে সেবনকারীদের প্রবণতাও। আশির দশকের শুরুতে যে প্রজন্ম হেরোইনের নেশায় ডুবে ছিল, তারা পরবর্তী সময়ে ফেনসিডিলে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৮০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হেরোইন ও ফেনসিডিল সমানতালে জায়গা ধরে রেখেছিল মাদক জগতে। দুটিই নিস্তেজকারক মাদক। একুশ শতকের শুরুতে নতুন মাদক হিসেবে আসে ইয়াবা। তখন মাদকাসক্তরা এতে আসক্ত হয়। এখনও ইয়াবা তার অবস্থান ধরে রেখেছে এবং অন্য মাদকের চেয়ে বেশিদিন রাজত্ব করছে। ২০২১ সাল থেকে ইয়াবার বাজার দখলের চেষ্টা করছে ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। এক কার্ডেই মিলবে রাষ্ট্রীয় সব সুবিধা - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত বিশ্বের আদলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সামাজিক পরিচিতি কার্ড’ বা ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’ দিতে যাচ্ছে সরকার। সেই কার্ডের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন কার্ডধারীরা। প্রাথমিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে এটি চালু হলেও ভবিষ্যতে তা সামাজিক পরিচিতি কার্ডে রূপ নেবে। টিসিবি, ওএমএস কার্ডসহ অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির সুবিধা মিলবে ফ্যামিলি কার্ডেই। কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে নগদ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। এ ছাড়া ওই কার্ড দিয়েই স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। চলতি বছর দেশের হতদরিদ্র ও অসচ্ছল অন্তত দুই কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই কার্ড ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে।ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা চূড়ান্ত / সুবিধা পাবে না ছয় শ্রেণির মানুষ - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে সে পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে না। তেমনি বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিকও এ সুবিধা পাচ্ছেন না। নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের মধ্যে ছয় শ্রেণির মানুষকে সুবিধার বাইরে রেখে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরও যারা কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না, তারা হলেন-পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মালিক বা বড় ব্যবসা থাকলেও এ কার্ড পাওয়ার অযোগ্য হবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ নামে এ নীতিমালা করেছে। এ কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে-‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। নীতিমালাটি খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। এদিকে, আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।আস্থাহীনতার শেয়ারবাজারে নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা- দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, মানসম্মত কোম্পানির ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এ প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না তা এখন একটি বড় প্রশ্ন। নির্বাচনের পর আট কার্যদিবসের মধ্যে দুই কার্যদিবসে বড় উত্থান হলেও ছয় কার্যদিবসই দরপতন দেখেছে। বাজারে শেয়ারের দরের এই ওঠানামা কি স্বাভাবিক, নাকি গভীর সংকটের লক্ষণ? কেন বাজার বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও স্থিতিশীল হতে পারছে না? সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, নানা কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে ভালো কোনো কোম্পানি আসেনি। ভালো শেয়ারের জোগান না থাকায় বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) উন্নত বিশ্বের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগাতে পারছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে।রমজান-ঈদ ঘিরে সক্রিয় অপরাধী চক্র - দৈনিক মানবজমিনের প্রথম পাতার সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রমজান মাস ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী-ক্রেতাদের পণ্য কেনাবেচার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এই সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে অপরাধচক্র। পেশাদার ও মৌসুমি অপরাধীরা ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি-লুট, চাঁদাবাজি, টিকিট কালোবাজারি, জালনোট কারবার এবং মার্কেটগুলোতে পকেটমার ও মলম পার্টি-অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। অসাধু ব্যবসায়ীরা খাবারের ভেজাল বৃদ্ধি করে। মার্কেট, টার্মিনাল ও ইফতারের সময় ভিড় কাজে লাগিয়ে মোবাইল-টাকা চুরি করে। রাস্তাঘাট, যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থানে নানাবিধ ছদ্মবেশি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েন সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় হয়ে ওঠে এসব অপরাধীরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ঘটছে নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। অপরাধচক্রের সদস্যরা অনেকে ধরা পড়ছে পুলিশের জালে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোজা, ঈদ অথবা বড় কোনো ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান এলে বেড়ে যায় এসব অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোজা ও ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম ছিনতাই, মলম পার্টি, জালটাকা, অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারক এই সময়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনের নিরাপত্তায় বিশেষ ‘এস্কর্ট’ সেবা ও বাজারে মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে র্যাব, পুলিশ। আগে থেকেই নিরাপত্তায় মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কড়া নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরিবহন থেকে চাঁদা তোলে মালিক-শ্রমিকদের ৯৩২ সংগঠন - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সারা দেশে সংগঠনটির আওতাভুক্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ২৫৩। পরিবহন খাতে শ্রমিক সংগঠনের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা গেলেও মালিক সংগঠনের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সংগঠনের আওতায় আবার দেশের প্রতিটি জেলায় একাধিক সংগঠন থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ঠেলাগাড়ি, রিকশা-ভ্যানের মতো অযান্ত্রিক ও নসিমন-করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি পরিবহনের জন্যও রয়েছে আলাদা আলাদা সংগঠন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সড়ক পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সংখ্যা ৯৩২। এসব সংগঠনের আয়ের প্রধান উৎস পরিবহন থেকে তোলা চাঁদার টাকা। হাজার মানুষের একটি শয্যা - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সরকারি হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক রোগীকে শয্যার অভাবে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হয়। কখনো ওয়ার্ডের মেঝেতে জায়গা হয়, অনেক ক্ষেত্রে বারান্দা, সিঁড়ির নিচে, এমনকি প্রক্ষালনকক্ষের বাইরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হয় নিম্নবিত্তের মানুষকে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বড় পরিসংখ্যানগত প্রকাশনা ‘হেলথ বুলেটিন’। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে হেলথ বুলেটিন ২০২৩ প্রকাশ করে সরকার। এর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে মোট ৭১ হাজার ১০০টি শয্যা রয়েছে।